এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি, ইচ্ছামত ‘ফি’ হাঁকাচ্ছে মেডিকেল কলেজ

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৩ PM , আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৩ PM
এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি, ইচ্ছামত ‘ফি’ হাঁকাচ্ছে মেডিকেল কলেজ

এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি, ইচ্ছামত ‘ফি’ হাঁকাচ্ছে মেডিকেল কলেজ © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তিন দিন আগে। ১০ জানুয়ারি সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশের ৩৮টি সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এই প্রক্রিয়ার জন্য গুণতে হচ্ছে বিশাল অঙ্কের টাকা। তবে প্রথম সারি থেকে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা মেডিকেলগুলোতে ভর্তিতে এই অঙ্কের ব্যবধান কোথাও কোথাও দ্বিগুণেও দাঁড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু বিশাল অঙ্কের টাকা গুণে মেডিকেল ভর্তিই নয়, মাইগ্রেশন করে অপেক্ষাকৃত ‘ভাল’ মেডিকেলে যেতে আবারও গুণতে হয় এ অর্থ। এক্ষেত্রে ছেড়ে আসা মেডিকেলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেডিকেল ভর্তি কার্যক্রম ভর্তি পরীক্ষার মত সমন্বিত কোনো উদ্যোগ না থাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও একেক মেডিকেল একেক রকম ভর্তি ফি আদায় করছে। একইভাবে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও নতুন করে ভর্তি ফি জমা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের।

কোন মেডিকেলে কত ভর্তি ফি
দেশে বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩৮টি। এর মধ্যে নতুন অনুমোদন পাওয়া মুন্সীগঞ্জ মেডিকেল কলেজ এখনও কার্যক্রম শুরু করেনি। এর বাইরে একটি সরকারি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে। কার্যক্রম চলমান ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সর্বনিম্ন ১১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে।

118
সবচেয়ে বেশি, ২০ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে

ভর্তি ফি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে, যেখানে ভর্তি ফি ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া আরও ৪টি মেডিকেলে ১৫ হাজার টাকার উপরে ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে। এগুলো হল— কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ১৮ হাজার ৫৯০, ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজে ১৫ হাজার ৫০০, মাগুরা মেডিকেল কলেজে ১৫ হাজার ২৫০ এবং জামালপুর মেডিকেল কলেজে ১৫ হাজার টাকা।

মেডিকেলে একেক রকমের ভর্তি ফি নেওয়ার কথা না। ভর্তি ফি ফিক্সড করে দেওয়া আছে। বিভিন্ন মেডিকেলে বিভিন্ন ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিব— অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

১৩ হাজার টাকার উপরে ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে ৭টি মেডিকেলে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ১৪ হাজার ৩৩০, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ১৪ হাজার ২০০, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ১৩ হাজার ২০০, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ১৩ হাজার ১৫০, নওগাঁ মেডিকেল কলেজে ১৩ হাজার ৫০ এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা। আর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি ফি ১১ হাজার ৯০০ টাকা নেওয়া হলেও বিডিএস কোর্সের ক্ষেত্রে আদায় করা হচ্ছে ১৩ হাজার ৩০০ টাকা করে।

১৩ হাজারের নিচে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ১২ হাজার ৪৫০, ঢাকা ডেন্টাল কলেজে ১২ হাজার ৪০০, রংপুর মেডিকেল কলেজে ১২ হাজার ২০০ এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ১২ হাজার ৫০ টাকা করে ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে কম ভর্তি ফি আদায় হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে। এর মধ্যে ঢামেকে ১১ হাজার ৮৫০ এবং অপরটিতে ১১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অপর ১৯টি মেডিকেলের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

কোন খাতে কত ফি
দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী ও ভর্তিচ্ছুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলনামূলকভাবে নতুন এবং পিছিয়ে থাকা মেডিকেলগুলোতে ভর্তি ফি বেশি নেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ভর্তি ফি’র মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাত অন্তর্ভুক্ত থাকে। কোনো কোনো মেডিকেলে ভর্তি ফির ক্ষেত্রে সবগুলো খাতের তথ্য নোটিশে উল্লেখ থাকলেও অনেকগুলোতেই স্পষ্ট কোনো খাতের তথ্য নেই।

আরও পড়ুন: ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া শীর্ষ তিনের দুজনই ছাত্রলীগের

১৫ হাজার টাকা ভর্তি ফি আদায় করা জামালপুর মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, ভর্তির সময় ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য সনদপত্রাদি যাচাইপূর্বক সঠিক পাওয়া গেলে বিভিন্ন ফি বাবদ সর্বমোট ১৫ হাজার টাকা রশিদ গ্রহণপূর্বক ব্যাংকে জমা দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এখানে কোন কোন ফি বাবদ এত অর্থ নেওয়া হচ্ছে তার উল্লেখ নেই।

119
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফি নেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মেডিকেলটিতে ‘ভর্তি ফি’ বাবদ ২০০, বেতন ৩০০ ও সিট ভাড়া (প্রতি মাসে) ৫০ টাকা করে আদায় করছে। এ তিনটি খাত ‘প্রজ্ঞাপন অনুসারে’ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত ফি। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ১ হাজার ৪০০, অধিভুক্তি ফি ৬০০, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ফি ৬ হাজার, পরিচয়পত্র ফি ২০০, লাইব্রেরি কার্ড ফি ৩০০, বিএমডিসি ফি ২০০, ছাত্র কল্যাণ তহবিল ফি এক হাজার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ফি ৫০০, কমনরুম ফি ৫০০, ওরিয়েন্টেশন ফি এক হাজার, বোর্ড ফি ২০০ এবং আরও ৭৫০ টাকা ‘বিবিধ’ খাতে আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে মোট ১৫টি খাতে ১৩ হাজার ২০০ টাকা ভর্তি ফি আদায় করছে এই মেডিকেল কলেজ।

আরও পড়ুন: মেডিকেলেও ছাত্র সংসদ চায় শিবির, উদাসীন অন্যরা, সাড়া নেই প্রশাসনের

অপরদিকে ১৫টি খাতেই ‘বিবিধ’ ৭৫০ টাকা আদায় করেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ফি নিচ্ছে ১২ হাজার ৪৫০ টাকা। আর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অন্যান্য ফি প্রায় সমান থাকলেও ১২টি খাত দেখানো হয়েছে, যেখানে ‘বিবিধ ইনসিডেন্টাল ফি’ খাতে ধরা হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আদায় করছে ১২ হাজার ২০০ টাকা।

Unconfirmed 927754
ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফি নিচ্ছে মুগদা মেডিকেল কলেজ

মাইগ্রেশনের পর ফের নতুন ভর্তি ফি
শিক্ষার্থীরা বলছেন, পছন্দের কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশন পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে মেডিকেল ভর্তির ওয়েবসাইটে মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে হয়। সেখানে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়। তবে একটি মেডিকেলে ভর্তি থাকা অবস্থায় মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় অপর মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে আগের মেডিকেলে জমা দেওয়া ফি ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই শিক্ষার্থীদের। এমনকি আগের মেডিকেল থেকে নতুন মেডিকেলে এই অর্থ ট্রান্সফারও করা হয় না। ওই অর্থ পুরোটাই ওই মেডিকেলটির তহবিলে জমা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মাইগ্রেশনের পর নতুন মেডিকেলে ভর্তির জন্য নতুন করে নির্ধারিত ভর্তি ফি জমা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের।

ফলে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা মেডিকেল থেকে পছন্দের মেডিকেলে যেতে শিক্ষার্থীদের গুণতে হয় বিপুল অঙ্কের টাকা। এই পদ্ধতিতে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ২০ হাজার টাকা ভর্তি ফি দিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীকে মাইগ্রেশনের পর সবচেয়ে কম ভর্তি ফি আদায় করা নেত্রকোনা মেডিকেলে ভর্তি হতে হলেও আরও ১১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। ফলে মেডিকেলে ভর্তির পিছনেই তার খরচ হবে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা।

যা বলছে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রশাসন
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১১ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। এ বছর এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ইচ্ছামত ফি আদায় করছে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরকারি কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: যার ভয়ে সমুদ্রে আশ্রয় নিয়েছিল ব্রিটিশরা, সেই হাবিলদার রজব আলী নেই পাঠ্যপুস্তকে

গত বছরের ভর্তি ফি-ই কার্যকর থাকার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘মেডিকেলে একেক রকমের ভর্তি ফি নেওয়ার কথা না। ভর্তি ফি ফিক্সড করে দেওয়া আছে। বিভিন্ন মেডিকেলে বিভিন্ন ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিব।’

মাইগ্রেশনের পর নতুন করে ভর্তি ফি জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে  এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসলে নেই। আগের মেডিকেল টাকাটা কিভাবে ফেরত দিবে এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আমি বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব।’

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবির ডজনখানেক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধার দাবি…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‎জাবি ভিসিকে ‘সাদা দলের’ সভাপতি বলায় প্রতিবাদ, তথ্য যাচাই হ…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ৩ অক্টোবর পর্যন্ত
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবার দোয়ায় দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি, স্লিপার বাস থেকে বেঁচে ফেরা…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9