বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
গত এক বছরে শিক্ষা ও একাডেমিক উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে বহু এগিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। অভাবনীয় অগ্রগতির স্বীকৃতিস্বরূপ একাডেমিক ও চিকিৎসা সেবাখাতে বেশ কিছু বৈশ্বিক অর্জনও মিলেছে প্রতিষ্ঠানটির ঝুলিতে। নীতিমালা প্রণয়নের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলছেন, আরও কিছু অর্জনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশের প্রথম এই চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।
উপাচার্য জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অর্জন করেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে— ওয়ার্ল্ড এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার দিবস-২০২৫ উপলক্ষে এভিডেন্স-বেইজড মেডিসিনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে স্বীকৃতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ডের (আইআরবি) যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব হিউম্যান রিসার্চ প্রটেকশন (ওএইচআরপি) এবং ফেডারেল ওয়াইড অ্যাস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (এফডব্লিউএ থেকে স্বীকৃতি লাভ, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেস্থেশিয়া থেকে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত বাৎসরিক প্যাথলজিস্ট কনফারেন্সকে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েল কলেজ অব প্যাথলজিস্ট-এর স্বীকৃতি।
এক বছরে আরও যা অগ্রগতি
উপাচার্য জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, একাডেমিক, চিকিৎসা ও গবেষণা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ প্রসারিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আইআইআইটি, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (চীন), আইসিইএসসিও, সিওএমএসএটিএস ইউনিভার্সিটি (ইসলামাবাদ), একপে, এটুআই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আইসিইএসসিওর সাথে একাডেমিক ও টেকনিক্যাল সহযোগিতা কার্যক্রমও চালু হয়েছে।
আরও পড়ুন: অটোমেশনের আওতায় বিএমইউ হাসপাতালের ল্যাব সার্ভিস, কমবে ভোগান্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নেওয়া আরও কিছু পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে— প্রায় ৫১৫০টি প্রশ্নের সমন্বয়ে স্ট্রাকচার্ড ক্লিনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট ব্যাংক তৈরি এবং ৩০টি কর্মশালা আয়োজন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৩০৭ জন গবেষকের তালিকা প্রণয়ন, সিআরও প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিসিপি ট্রেনিং ও সার্টিফিকেট প্রদান, ৪৬৭ জন শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীকে পদোন্নতি প্রদান, ৮১ জন শিক্ষক-চিকিৎসককে গবেষণা ভাতা বাবদ ২ কোটি ১২ লক্ষ টাকা প্রদান এবং ৫৪৯ জন রেসিডেন্টকে থিসিস ভাতা বাবদ ৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা প্রদান।
ইমারজেন্সি মেডিসিন বিভাগ আমরা নতুন চালু করেছি, এর কারিকুলামটা আমরা অস্ট্রেলিয়ান রয়েল কলেজের সাথে এলাইন করে করেছি। ওরা আমাদের স্টুডেন্টদের একটা সার্টিফিকেট কোর্সের স্কলারশিপ দেবে, এটা আমাদেরকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে— অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, ভিসি, বিএমইউ
এই সময়ে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। যেমন— ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) মাধ্যমে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৯টি বিভাগের ১৮৮ জন শিক্ষককে এভিডেন্স বেইজড মেডিসিন, টিচিং মেথডোলজি ও অ্যাসেসমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, আউটকাম বেইজড কারিকুলাম, ই-জিপি, পিপিআরসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৭৩২ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ইথিক্যাল রিসার্চ ইমপ্লিমেন্টেশন, ওরিয়েন্টেশন অন ম্যানুস্ক্রিপ্ট রিভিউ অব বিএমইউ জার্নাল বিষয়ে ৬১০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি বিষয়ে এমডি কোর্স চালু হয়েছে। এ দুটি বিভাগ হল— জেরিয়াট্রিক মেডিসিন ও ইমার্জেন্সি মেডিসিন।
স্বাস্থ্যসেবায় অনলাইন টিকেটিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বহিঃবিভাগে রোগী সেবা, বিনামূল্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ঔষধ সরবরাহ, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে দেশের প্রথম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেবা চালু, অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগে দীর্ঘদিনের বিকল থাকা লিনিয়ার এক্সেলেরেটর মেশিন চালু, ক্যান্সার রোগীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনিভর রেডিওথেরাপি সেবার দ্বিতীয় শিফট চালু, দেশে প্রথমবারের মত ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে রেডিওথেরাপি চার্ট রাউন্ড চালু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার জন্য ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া এবং ক্লিনিক্যাল অডিট ও মেডিকেল অডিট কার্যক্রম চালু করা অন্যতম। এ ছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহের বাজেট ৩ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সেবার মানোন্নয়ন, রোগীর যত্ন, হাসপাতাল শিষ্টাচার, রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিষয়ে ২৭৩ জনকে শিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এই সময়ে বিএমইউ হাসপাতালে সংযোজন হয়েছে জেরিয়াট্রিক মেডিসিন এবং ইমার্জেন্সি মেডিসিন ইউনিট।
এ ছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে যন্ত্রপাতি খাতে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব উদ্যোগে ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি ক্রয়নীতির আলোকে ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রোকিউরমেন্ট ই-জিপির আওতায় আনা হয়েছে।
আমরা এই সময়ের মধ্যে বিদেশি পরীক্ষক নিয়ে আসার একটা নীতিমালা পাস করেছি। ইতোমধ্যে বিদেশি এক্সামিনার আসা শুরু করেছেন। যেমন প্যাথোলজি পরীক্ষায় রয়েল কলেজের এক্সামিনার আসেন, অনকোলজির পরীক্ষায় আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে পরীক্ষক আসেন। এ ছাড়া আগা খান ইউনিভার্সিটি এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল থেকেও এক্সামিনার আসছেন। আগামী পরীক্ষাগুলোতেও আসবেন। এভাবে আমরা কাজ করলে এই স্বীকৃতিগুলো অর্জন করা সম্ভব— অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, ভিসি, বিএমইউ
রয়েছে ব্যাপক উদ্যোগও
অর্জনের পাশাপাশি বেশ কিছু পরিকল্পনা ও উদ্যোগও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে। উপাচার্য জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সেন্ট্রাল স্কিল ল্যাব গঠন, সর্বাধুনিক অ্যানিমাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা, প্যাথলজি বিভাগের জন্য একটি Motorized Upright Fluorescence Microscope with Karyotyping and FISH software (AI Based) স্থাপন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং স্টেম সেল থেরাপি ইউনিট চালু, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের ল্যাবরেটরির মান উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে ISO 15189 Medical Laboratory Accreditation কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রেস স্থাপন, Institutional Practices (IP) প্রোগ্রাম চালু করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: ৪ তলা বাড়িয়ে হয়েছে সাত, ‘অতি ঝুঁকি’ নিয়েই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাস এই ভবনে
একই সাথে অফিসিয়াল কাজের গতি বৃদ্ধি ও ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে ডি-নথি কার্যক্রম, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক সুবিধার কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য Dry Lab-এ পর্যাপ্ত ম্যানিকিন ও সিমুলেটর স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সকল বিভাগকে অটোমেশনের আওতায় আনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়টি রূপকল্প হিসেবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে মাল্টি-পারপাস হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মানের জন্য পূর্বাচলে ৬৬ একর জায়গায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রক্রিয়া চলমান।
স্বীকৃতি পেতে কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা পদ্ধতি আরও উন্নত করতে হবে
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের এখানকার পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির যে কার্যক্রম, এটার যদি আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আনতে পারি, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। এটা পাওয়া সম্ভব।
এই স্বীকৃতি পেতে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন— যুক্তরাজ্যের রয়েল কলেজ অব মেডিসিন বা রয়েল কলেজ অব সার্জারি এদের সাথে কাজ করতে চাইলে আমাদের কারিকুলামকে ওদের সাথে এলাইন (সামঞ্জস্যপূর্ণ) করা লাগবে। আমাদের যে ট্রেনিং এবং পরীক্ষা পদ্ধতি, এটাকে ওদের সাথে এলাইন করা লাগবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অর্জন করেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে— ওয়ার্ল্ড এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার দিবস-২০২৫ উপলক্ষে এভিডেন্স-বেইজড মেডিসিনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে স্বীকৃতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ড (আইআরবি) যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব হিউম্যান রিসার্চ প্রটেকশন (ওএইচআরপি) এবং ফেডারেল ওয়াইড অ্যাস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (এফডব্লিউএ থেকে স্বীকৃতি লাভ, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেস্থেশিয়া থেকে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত বাৎসরিক প্যাথলজিস্ট কনফারেন্সকে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েল কলেজ অব প্যাথলজিস্ট-এর স্বীকৃতি।
এক্ষেত্রে আমরা একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছি। আমরা এই সময়ের মধ্যে বিদেশি পরীক্ষক নিয়ে আসার একটা নীতিমালা পাস করেছি। ইতোমধ্যে বিদেশি এক্সামিনার আসা শুরু করেছেন। যেমন প্যাথোলজি পরীক্ষায় রয়েল কলেজের এক্সামিনার আসেন, অনকোলজির পরীক্ষায় আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে পরীক্ষক আসেন। এ ছাড়া আগা খান ইউনিভার্সিটি এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল থেকেও এক্সামিনার আসছেন। আগামী পরীক্ষাগুলোতেও আসবেন। এভাবে আমরা কাজ করলে এই স্বীকৃতিগুলো অর্জন করা সম্ভব। যেমন ইমারজেন্সি মেডিসিন বিভাগ আমরা নতুন চালু করেছি, এর কারিকুলামটা আমরা অস্ট্রেলিয়ান রয়েল কলেজের সাথে এলাইন করে করেছি। ওরা আমাদের স্টুডেন্টদের একটা সার্টিফিকেট কোর্সের স্কলারশিপ দেবে, এটা আমাদেরকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে।