বিকেল ৩টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে এই বৈঠক শুরু হয় © সংগৃহীত
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ইনক্রিমেন্ট ব্যতীত নবম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (৮ জুন) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ইনক্রিমেন্ট ব্যতীত নবম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (৮ জুন) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে বিকেল ৩টার কিছু পরে স্বাস্থ্য ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য সচিব। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতন প্রশাসন।
বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পান। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবম গ্রেডের বেসিকের সমান ভাতা পেলে তারা ২২ হাজার করে পাবেন। এ ছাড়া স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী বা পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা কোনো ধরনের ইনক্রিমেন্ট ছাড়া নবম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য। তারা জানান, আগামী বাজেটে এটি বিবেচনা করে দেখার কথা বলেছেন নীতিনির্ধারকরা। তবে এটি বাস্তবায়ন হবে মর্মে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
প্রতিনিধিদলের সদস্যলা আরও জানান, অন্যান্য দাবিগুলো নিয়েও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের একটি যৌথ প্রেস ব্রিফিং হবে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
১২ সদস্যের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধিদলে রয়েছেন— ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সভাপতি ডা. মোস্তফা আমির ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সদস্য সচিব ডা. আল মেয়ান শেখ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ (এসএইচএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিটির (আইডিসি) সমন্বয়ক ডা. মো. ফজলে এলাহী তরুণ ও ডা. সাব্বির হোসাইন, মুগদা মেডিকেল কলেজ (মুমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সাধারণ সম্পাদক ডা. তানজিম মাহফুজ মজুমদার, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. আল আমিন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সভাপতি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. সাকিব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জামান মোহাম্মদ নুরশাদ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. মো. মিসবাহুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মুসফিকুল ইসলাম রাফিন।
এর আগে ৬ দফা দাবিতে রবিবার (৭ জুন) অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন সারা দেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শনিবার প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও করেন তারা। ইন্টার্নদের পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনও চলছে। একইসঙ্গে আজ (সোমবার) কর্মবিরতি শুরু করেন পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা।
তাদের ৬ দফা দাবি হলো— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে আনা, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনিদের ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।