ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভাগের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অধিভুক্তি নিশ্চিত করেছে দেশের ৪ বিভাগে প্রতিষ্ঠিত ৪টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। স্নাতক পর্যায়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিগ্রি প্রদানসহ পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তবে এখনও ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধীনে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধীনে নিতে বারবার উদ্যোগ নিলেও তা থমকে আছে। জানা গেছে, বিষয়টি নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ডিন কমিটির বৈঠকে এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। চলতি মাসেই এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ৫টি। বিএমইউ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সাধারণত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চিকিৎসা শিক্ষার জন্য। বিএমইউসহ ৫ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতার বিষয়ে বলা হয়েছে, চিকিৎসা শাস্ত্রের যে কোন বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নে, বিশেষ করে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে কোন বিষয়ে শিক্ষার ও গবেষণার ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া নার্সিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ের অধ্যয়নের সুযোগ রাখা হয়নি আইনে।
আরও পড়ুন: ৫ বিভাগের মেডিকেল কলেজের দায়িত্ব থেকে রাবি-চবি-শাবি আউট, ঢাবির খবরদারিত্ব কেন রয়েই গেল?
যদিও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম (চমেবি), রাজশাহী (রামেবি), সিলেট (সিমেবি) ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (খুমেবি) প্রতিষ্ঠার পর স্ব স্ব বিভাগের পাশাপাশি আশেপাশের বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিএমইউর আইনে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান রাখা হয়নি। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ এর ৮(৫) ধারায় বলা হয়েছে, মেডিকেল কলেজ বা ইনষ্টিটিউটসমূহ পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অধিভুক্ত হতে পারবে।
মেডিকেল শিক্ষার মান সংরক্ষণের জন্য এটা বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অধীনে চলে আসা উচিত। আগামী ডিনস মিটিংয়ে এটা এজেন্ডা রেখেছি। আমরা মনে করি সরকার আমাদের সাথে একমত হবে— অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, উপাচার্য, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এর মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মেডিকেল কলেজ রামেবি, সিলেট বিভাগের মেডিকেল কলেজ সিমেবি, চট্টগ্রাম বিভাগের মেডিকেল কলেজ চমেবি ও খুলনা বিভাগের মেডিকেল কলেজ খুমেবির অধিভুক্ত। এর বাইরে ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সবগুলো মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। জানা গেছে, ঢাবির অধীনে বর্তমানে ঢাকার ৪টিসহ মোট ১৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ, ৪০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, সরকারি-বেসরকারি আরও ১০টি ডেন্টাল কলেজ, ১৭টি নার্সিং কলেজ, তিনটি হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক এবং ৯টি মেডিকেল ইনস্টিটিউট রয়েছে।
আরও পড়ুন: এক বছরে ৪ বৈশ্বিক অর্জন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
মেডিকেলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্বাস্থ্য শিক্ষার মতো একটি টেকনিক্যাল শিক্ষাকে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মানিয়ে চলতে কিছুটা ঝঞ্ঝাট পোহাতেই হয়। মেডিকেল কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও ঢাবি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। তারা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার রুটিন দেয় নিজেদের মতো করে। সেখানে দীর্ঘসূত্রতা তো আছেই, সার্টিফিকেট নিয়েও বেশ দীর্ঘসূত্রতা পোহাতে হয়। মেডিকেল বা স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নিয়ে বোঝাপড়াতেও কিছুটা ঘাটতি থাকে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের মাধ্যমে অধিভুক্ত মেডিকেলগুলো পরিচালিত হয়, তারপরও নানান কারণে এই ভোগান্তি এড়ানো যায় না।
এ নিয়ে বছরের ২৫ নভেম্বর ‘৫ বিভাগের মেডিকেল কলেজের দায়িত্ব থেকে রাবি-চবি-শাবি আউট, ঢাবির খবরদারিত্ব কেন রয়েই গেল?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই সময়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেডিকেল কলেজগুলোকে বিএমইউতে অধিভুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা কথা বলছি।
সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, মেডিকেল শিক্ষার মান সংরক্ষণের জন্য এটা বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অধীনে চলে আসা উচিত। আমরা আগামী ডিনস মিটিংয়ে এটা এজেন্ডা রেখেছি। মিটিংয়ে আলোচনা হবে এটা কিভাবে আনা যায়। তিনি বলেন, ডিনস মিটিংয়ের পর একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন হলে এরপর সরকারের সাথে আলোচনা শুরু হবে। আমরা মনে করি সরকার আমাদের সাথে একমত হবে।