ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই প্রথমবারের মতো নিজেদের একজন ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে নাবালকদের নিয়ে যৌন নিপীড়নমূলক ডিপফেক ছবি তৈরির চেষ্টা করেছেন ওই ব্যবহারকারী।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ১২ পৃষ্ঠার মামলায় দক্ষিণ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা টেরি হারউডের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের শুরুতে তিনি নাবালকদের যৌন শোষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
মামলায় এক্সএআই দাবি করেছে, হারউড ইচ্ছাকৃতভাবে কোম্পানির সেবার শর্ত ও গ্রহণযোগ্য ব্যবহার নীতি লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ভুয়া পরিচয়ে একাধিক এক্সএআই অ্যাকাউন্ট খুলে গ্রকের অন্তর্নির্মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিভ্রান্তিকর প্রম্পট ব্যবহার করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া অ-যৌন ছবিকে যৌন প্রকৃতির ডিপফেক ছবিতে রূপান্তরের চেষ্টা করেন।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, হারউড প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই সাধারণ ছবি আপলোড করে সেগুলোকে যৌন আবেদনময় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে গ্রকের কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা বারবার এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এ ধরনের নির্দেশনা প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন করে।
এরপরও হারউড নিরাপত্তাব্যবস্থা পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যে পরিবর্তিত ভাষায় একের পর এক নতুন প্রম্পট জমা দেন বলে অভিযোগ করেছে এক্সএআই।
মামলায় এক্সএআই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, যদিও নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি, হারউডকে স্থায়ীভাবে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য আদালতের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকবে আর মাত্র ১৫ দিন
এটি কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানির পক্ষ থেকে নিজেদের ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রথম মামলা। এমন সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন যৌন প্রকৃতির কনটেন্ট তৈরিতে গ্রকের অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে এক্সএআই। এ কারণে প্ল্যাটফর্মটি ওয়াশিংটনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের নজরদারির মুখে পড়েছে এবং মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইলন মাস্ক গ্রকের মাধ্যমে শিশুদের নগ্ন বা যৌন প্রকৃতির ছবি তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে এক্সে লিখেছিলেন, 'গ্রকের তৈরি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের নগ্ন ছবির ব্যাপারে আমি অবগত নই। আক্ষরিক অর্থেই শূন্য।'
এক্সএআই জানিয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা নিয়মিত অ্যাকাউন্ট স্থগিত, অ্যাকাউন্ট বাতিল এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কাছে পাঠিয়ে থাকে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫২ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে এবং ৭৩ হাজারের বেশি সন্দেহজনক ঘটনার প্রতিবেদন এনসিএমইসি-র কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুধু ২০২৬ সালেই প্রায় ২৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যসূত্র : আল জাজিরা।