শেল ট্রিপল ১০ চ্যালেঞ্জ কনসেপ্ট কার © সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এমন একটি নতুন কনসেপ্ট কার উন্মোচন করা হয়েছে, যা মাত্র ১০ মিনিটে ব্যাটারির চার্জ ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত করতে পারে। একই সঙ্গে ছোট আকারের ব্যাটারি ব্যবহার করেও দীর্ঘ পথ চলতে সক্ষম এই গাড়িটি ভবিষ্যতের ইভি প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইকশায়ারের নুনেটনে অবস্থিত হোরিবা-মিরা টেস্টিং ফ্যাসিলিটিতে উন্মোচন করা হয় শেল ট্রিপল ১০ চ্যালেঞ্জ কনসেপ্ট কার। মাত্র ১৮ মাসে একেবারে নতুনভাবে তৈরি করা এই গাড়িতে সর্বাধুনিক বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি গাড়ি তৈরি করা, যা দ্রুত চার্জ হবে, ছোট ব্যাটারিতেই ভালো রেঞ্জ দেবে এবং পুরো জীবনচক্রে তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণ করবে।
এই গাড়ির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর ব্যাটারি প্রযুক্তি। মোটরের কিছু অংশ এবং পুরো ব্যাটারিকে শেলের বিশেষ ব্যাটারি কুল্যান্ট তরলে নিমজ্জিত রাখা হয়েছে। এই কুলিং পদ্ধতির কারণে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয় না, ফলে দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব হলেও সেটি নিরাপদ তাপমাত্রার মধ্যেই থাকে।
প্রকল্পে যুক্ত আরএমএল গ্রুপের ডেনিস গোরম্যান বলেন, ‘বিশেষ এই তরল ব্যাটারির প্রতিটি সেলের মধ্যে প্রবাহিত হয়। ফলে ব্যাটারির ওপর উচ্চমাত্রার চার্জিং চাপ প্রয়োগ করেও নিরাপদভাবে দ্রুত চার্জ সম্পন্ন করা যায়।’
ব্যাটারির পাশাপাশি গাড়িটির অন্যান্য অংশেও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পুনর্ব্যবহৃত উপাদান দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ তৈরি করা হয়েছে এবং ওজন কমানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একই শ্রেণির একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) পথ চলতে পারলেও এতে ব্যবহৃত ব্যাটারির আকার তুলনামূলকভাবে অর্ধেক।
তবে এত নতুন প্রযুক্তিকে একসঙ্গে কার্যকর করা সহজ ছিল না। হোরিবা-মিরার প্রকৌশলীরা পুরো প্রকল্পে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। বিশেষ করে নতুন কুল্যান্ট তরল রাবারের হোসসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, সেটি নিয়ে দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।
হোরিবা-মিরার প্রকৌশলী বেন গেল বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শেখার অনেক বিষয় থাকে। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি তুলে ধরা হয়েছে।’
আরও পড়ুন : ব্লুটুথের বদলে আবারও কেন তারযুক্ত হেডফোনে ফিরছেন ব্যবহারকারীরা?
গাড়িটি চালানোর অভিজ্ঞতাও সাধারণ প্রোডাকশন মডেলের মতো। এতে আধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে, উন্নত কেবিন ডিজাইন এবং ছোট ব্যাটারির কারণে পেছনের যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক বেশি জায়গা রাখা হয়েছে। যদিও এটি এখনো একটি প্রোটোটাইপ। উন্মোচনের সময় প্রচণ্ড গরমে থ্রিডি-প্রিন্টেড প্লাস্টিকের উইং মিরর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তবে নির্মাতারা বলছেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত সংস্করণে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।
শেলের প্রতিনিধি টোবি রকস্ট্রো জানান, নতুন এই প্রযুক্তির প্রতি গাড়ি নির্মাতাদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তাদের আশা, আগামী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়িতে এই ধরনের ফ্লুইড-কুলড ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত চার্জিং, ছোট ব্যাটারিতে বেশি রেঞ্জ এবং কম কার্বন নিঃসরণের সমন্বয়ে এই কনসেপ্ট কার ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক যানবাহনের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।