তিতুমীর কলেজ
তিতুমীর কলেজের স্বাস্থ্যকেন্দ্র © টিডিসি ছবি
সরকারি তিতুমীর কলেজের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটে রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে চিকিৎসক না থাকায় একজন মেডিকেল সহকারীর মাধ্যমে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ওষুধ কেনার অর্থ বরাদ্দ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল সহকারী ও কলেজের অধ্যক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা নিয়ে।
সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই। একজন মেডিকেল সহকারী প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। ওষুধ হিসেবে রয়েছে কেবল নাপা, গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন। পুরোনো রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, ওজন মাপার মেশিন এবং রক্তে শর্করা পরীক্ষার যন্ত্র দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা। নেই নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত স্যানিটারি ন্যাপকিনেরও ব্যবস্থা। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ আগস্টের পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। এরপর থেকেই একজন মেডিকেল সহকারীকে দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা মুনিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার নেই। পর্যাপ্ত ওষুধও নেই। ওজন মাপার মেশিন নেই বললেই চলে। এছাড়া মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত স্যানিটারি ন্যাপকিনও থাকে না। যার কারণে আমার মতো অনেক নারী শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়ছেন। একটি সরকারি কলেজের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আমরা ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবাটুকুও পাচ্ছি না।’
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম মিয়া বলেন, ‘আমার প্রচণ্ড মাথা ঘুরছিল এবং বমি বমি ভাব হচ্ছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে কর্তব্যরত মেডিকেল সহকারী জানান, ডাক্তার ছাড়া তিনি এ ধরনের চিকিৎসা দিতে পারবেন না। পরে বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল সহকারী বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে এখানে কোনো চিকিৎসক নেই। গত বছরের ১৭ আগস্টের পর থেকে কোনো চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ সব ধরনের সেবা একাই দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রেশার মাপা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ওজন মাপার মতো সীমিত সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডাক্তার না থাকায় প্রশাসন নিয়মিত ওষুধ কেনার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয় না। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে নিজের টাকায় নাপা, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন কিনেছি। পরে সেই খরচের বিল কলেজের অ্যাকাউন্ট শাখায় জমা দিলেও এখন পর্যন্ত সেই টাকা পরিশোধ করা হয়নি।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা একজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের চেষ্টা করছি। একজন ডাক্তার নিয়োগ দিতে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়। বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই। তাই আপাতত একজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তারা সুপারিশ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওষুধের অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য আমরা প্রতি মাসেই ওষুধ কেনার টাকা দিয়ে থাকি।