‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে’

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ PM , আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ PM
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘সিনিয়র মাদ্রাসায়’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তোমরা এ পথে যেও না। তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। পোশাক ও ভাষাই শুধু মানুষের প্রকৃতি নির্ধারণ করে না। পাঞ্জাবি, পায়জামা আর টুপি পড়লেই কেউ আলেম হয় না, আলেম হতে গেলে এলেম জানতে হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্ম ব্যবসা এক নয়। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করছেন তারা এ বিষয়টা মানবেন যে- আমি সত্য কথা বলব, ন্যায়ের পথে চলব, আল্লাহ-রাসুলের দেখানো পথে চলব, কিন্তু ধর্মব্যবসা করব না।’

তরুণদের উদ্দেশে ফজলুর রহমান বলেন, ‘সত্য ও ন্যায়ের পথে চলো। সত্য কথা বলো। অন্ধকারকে আলোকিত করার জন্য অন্ধকারে একটা মোমবাতি হলেও জ্বালাও।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধই সত্য, রাজাকার আলবদররা হলো অভিশপ্ত।’

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালে বোম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাহ গুজরাটের একটি খোজা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যারা মাছ বিক্রি করত। তবে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে তার পরিবারকে গুজরাটের প্যানেলি গ্রামের মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯২৯ সালে জিন্নাহর ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দাবি ছিল উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘১৪ দফা দিল, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি করল, জিন্নাহ একটা পাকিস্তান বানাইলো। পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।’

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় জাতীয় সত্ত্বায় নয়, আমরা নৃতাত্ত্বিক জাতীয় সত্ত্বায়, ভাষাভিত্তিক জাতীয় সত্ত্বায় আমরা দেশ বানাইতে চাই।’

তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এর পথ ধরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের শাসন, এরপর ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন এগিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে এবং রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারসহ অনেকে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে হেড অব এসএমই পদে চাকরি
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিলেন মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গু  আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআই দিয়ে পরীক্ষায় উত্তর লেখার দায়ে ঢাবির ছাত্রদল ও হল সংসদ …
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা কিউআর পেমেন্টে টাকা জমা নিয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ …
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চমক রেখে আসিয়ান কাপের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬