এআই দিয়ে পরীক্ষায় উত্তর লেখার দায়ে ঢাবির ছাত্রদল ও হল সংসদ নেতাকে শাস্তি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ PM
বাঁয়ে ছাত্রদল নেতা ফাতহুন কারিব চৌধুরী ও ডানে ডাকসুর হল সংসদ নেতা মো. ফেরদাউস

বাঁয়ে ছাত্রদল নেতা ফাতহুন কারিব চৌধুরী ও ডানে ডাকসুর হল সংসদ নেতা মো. ফেরদাউস © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পরীক্ষার হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তিপ্রাপ্ত দুজনের একজন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য ফাতহুন কারিব চৌধুরী এবং অন্যজন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ফেরদাউস। তাদের মধ্যে কারিব চৌধুরী পরীক্ষার সময় মোবাইলে গুগলের এআই সেবা জেমিনিতে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। আর ফেরদাউসের বিরুদ্ধে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা +২’ এবং ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা +১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কারিব যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করেছেন, সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী দুটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। অন্যদিকে ফেরদাউসের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১১ জুন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি পরীক্ষা চলাকালে কারিব চৌধুরীকে দুই পায়ের মাঝখানে মোবাইল ফোন রেখে ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা জেমিনিতে করা সার্চের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে ওই পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছিল।

অন্যদিকে ফেরদাউসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষা চলাকালে। ঘটনার সময় আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তিনি শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পরীক্ষার হল থেকে বের হন। পরে বিভাগের করিডরে গিয়ে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন নিয়ে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাকে আটক করেন। পরে জব্দ করা ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পরীক্ষা করে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোই সেখানে অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর অসদুপায়ের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী তার খাতা রিপোর্ট করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা +১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে তার ১০৭ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী একটি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ বা সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে তাকে বিরত থাকতে হবে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী বিষয়টি শৃঙ্খলা পরিষদে পাঠানো হয়। গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

একই সিন্ডিকেট সভায় পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ফেরদাউসসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৪ শিক্ষার্থীকে ‘পরীক্ষা +১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’—এই তিন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তির বিধান অনুযায়ী, ‘পরীক্ষা +১’ বলতে যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করা হয়েছে, সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী আরও একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়াকে বোঝায়। একইভাবে ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ বলতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী যথাক্রমে দুটি ও তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বোঝানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৭ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতেও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৪ শিক্ষার্থীকে ‘পরীক্ষা +১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়।

তবে শাস্তিপ্রাপ্ত ফেরদাউস পরীক্ষার হলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন রাত থেকে আমার ছোট ভাই গুরুতর অসুস্থ ছিল। পরীক্ষার দিন সকালে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার জন্য বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাই। বিষয়টি নিয়ে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলাম। 

তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন একপর্যায়ে আমার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমি হল থেকে বাইরে বের হই। সে সময় আমার বিভাগের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে, ছোট ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ফোন ব্যবহার করে বাড়িতে একটি কল দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষক বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং পরবর্তীতে আমাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন (ইসরাফিল প্রং) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন প্রমাণিত হলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তার দলমত দেখা হয় না।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নেতা হোক অথবা ছাত্রদল হোক অভিযোগের প্রমাণের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।’

সাতকানিয়ায় দাখিলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ছাত্রীদের সংবর্ধনা
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এআইটি অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড …
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিটিশ ভারতে দাপ্তরিক ভাষা উর্দু
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে হেড অব এসএমই পদে চাকরি
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিলেন মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গু  আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬