রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নিজস্ব বাজেটে গবেষণা খাতে কোনো পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে গবেষণার অর্থ পেতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবছরের জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে গবেষণা পরিকল্পনা ও অর্থের চাহিদা চেয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও ইউজিসিতে কোনো চাহিদাপত্র পাঠায়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট সেকশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫৪৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৯৫ কোটি ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বাজেটের ব্যয় কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর বড় অংশই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং পেনশন ও অবসর সুবিধা খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া পণ্য ও সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন পরিচালন ব্যয় রয়েছে।
বাজেট সেকশনের তথ্য অনুযায়ী এ বছর বাজেটের ৩১৬ কোটি ৩৬ লাখ ২১ হাজার বেতন-ভাতা খাতে এবং পেনশন খাতে ১০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য সেবা খাতে বরাদ্দ মাত্র ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা পরিচালনা এবং অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ ও প্রসার করা হলেও নতুন অর্থবছরে রাবিতে গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে ইউজিসি জানিয়েছেন গবেষণা খাতে দ্বৈততা এড়াতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাজেটে সরাসরি অর্থ না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবছরের ৩ জুলাই ইউজিসি তার ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে ইউজিসি ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন পদ্ধতি আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গবেষক-বান্ধব করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা, গবেষণার অগ্রাধিকার ও বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র্য ক্ষুণ্ণ হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গবেষণা খাতে ইউজিসি কর্তৃক অর্থ প্রদানের নিমিত্তে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের গবেষণা পরিকল্পনা, উপ-খাতভিত্তিক অর্থের চাহিদা এবং বাজেট প্রাক্কলন দ্রুত কমিশনে প্রেরণের অনুরোধ জানিয়ে ২ জুলাই পত্র প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে ইউজিসি।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানায় ইউজিসি। ইউজিসির নির্দেশনায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জ্যেষ্ঠ গবেষকদের সঙ্গে উদীয়মান গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং গবেষণা প্রকল্প প্রণয়নে দেশের প্রয়োজনীয়তা ও সরকারের অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে এই বিজ্ঞপ্তির আড়াই মাস পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থের চাহিদাপত্র দিতে পারেনি প্রশাসন।
তবে চলতি মাসেই ইউজিসি বরাবর পত্র পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পের ফান্ডটা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা প্রকল্প জমা দিতে বলেছে। গবেষকরা অনুষদভিত্তিক আবেদন করবেন। পরে অনুষদ থেকে সেগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরে আসবে এবং আমরা তালিকা করে ইউজিসিতে পাঠাব।’
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এ কাজের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সার্কুলার দিয়েছি। আবেদনগুলো পাওয়ার পর কম্পাইল করে চলতি মাসের মধ্যেই ইউজিসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ইউজিসি গবেষণার মান অনুযায়ী সেগুলো যাচাই করে অর্থ বরাদ্দ দেবে।’