ধ্যাপক ড. মোহা. মনিরুল হক © সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. মনিরুল হক। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি এসব অভিযোগকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ বলে দাবি করেছেন।
প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক মনিরুল হক বলেন, ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল তাকে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত মেয়াদের অর্ধেক সময়ও পার হওয়ার আগে কোনো পূর্ব নোটিশ বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমানকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই বিভাগের আগের তিনজন সভাপতি তাদের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। অন্য বিভাগের শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নিজ বিভাগে ফেরত পাঠানোর নজির থাকলেও তার ক্ষেত্রে নতুন সভাপতিও অন্য বিভাগের শিক্ষক হওয়ায় সিদ্ধান্তটির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মনিরুল বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তার বিরুদ্ধে যে অনিয়মের অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত, ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ বা চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরির কোনো পর্যায়েই তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে আব্দুল্লাহ যুবায়ের ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৩ হাজার ২৫৫তম স্থান অর্জন করে ব্যাবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন। বিজ্ঞান গ্রুপে দুই দিনে ৪০ জন শিক্ষার্থী ব্যাবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে প্রস্তুত মেধাতালিকায় তার ছেলে ৮ম স্থান অর্জন করেন।
অধ্যাপক মনিরুলের দাবি, ব্যাবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ‘সি’ ইউনিট অফিসের সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল কমিটি ফলাফল প্রস্তুত করে। ফলে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়ায় তার প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, বিভাগটিতে বিজ্ঞান গ্রুপের জন্য ২৫টি আসন নির্ধারিত থাকলেও মাইগ্রেশনের পর শেষ পর্যন্ত ২২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ফলে তিনটি আসন শূন্য থাকে। তার ভাষ্য, এতে বোঝা যায় তার সন্তানের ভর্তি নিশ্চিত করতে ফলাফল পরিবর্তন বা অনিয়মের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
ডিন অফিসকে লিখিতভাবে অবহিত না করার বিষয়ে অধ্যাপক মনিরুল বলেন, ‘আমার সন্তান ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও আমি প্রশ্ন প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের মতো কোনো প্রত্যক্ষ পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলাম না। তাই বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত না করার ক্ষেত্রে আমি কোনো অনিয়ম দেখছেন না।’
প্রতিবাদলিপিতে তিনি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই সময়ে তার এক ভাতিজি ভর্তি পরীক্ষার্থী থাকায় বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন তাকে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। তিনি স্বেচ্ছায় সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।
উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে অধ্যাপক মনিরুল বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপাচার্য তাকে ডেকে তার সন্তানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল কি না জানতে চান। তিনি না-সূচক উত্তর দেন। তার দাবি, এ সময় উপাচার্য তাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে তার ওপর চাপ রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাকে ঘিরে একটি ব্যবস্থা নিতেই হবে। একই সঙ্গে উপাচার্য তাকে জানান, খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন যে তার ছেলে মেধার ভিত্তিতেই ভর্তি হয়েছে এবং কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন বা অনিয়ম হয়নি।
প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক মনিরুল বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় আমার বিরুদ্ধে যে অনিয়মের অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সামঞ্জস্য নেই।’ তিনি দাবি করেন, কোনো তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই তাকে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত করে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা তার জন্য মর্যাদাহানিকর।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মূল বিভাগে ফেরত পাঠাতে পারে। তবে কোনো প্রমাণিত অনিয়ম ছাড়াই তাকে একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে জনসম্মুখে হেয় করা দুঃখজনক।
প্রতিবাদলিপির শেষে অধ্যাপক মনিরুল সংশ্লিষ্টদের কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করার আগে ভর্তি পরীক্ষার প্রকৃত প্রক্রিয়া, দায়িত্ব বণ্টন এবং নথিভুক্ত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত ও প্রচারিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়নের অনুরোধ করেন।