বেনিনের সঙ্গে বিদায়ী ম্যাচে লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ রাতটি স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন বেনিনের কয়েকজন ফুটবলার। ম্যাচ শেষে মেসির সঙ্গে একটি স্মারক ছবি তুলতে চেয়েছিলেন তারা। তবে এক বেনিন খেলোয়াড়ের সেলফির আবদারে সাড়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক চলছে এখন।
মনুমেন্টালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলান মেসি। একই সঙ্গে মাঠে নিজের শেষ মুহূর্তগুলো উপভোগ করছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
এ সময় মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার চেষ্টা করেন বেনিনের এক খেলোয়াড়। তবে তাকে সাড়া না দিয়ে সামনে এগিয়ে যান মেসি। সেই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা।
যদিও পুরো ম্যাচেই বেনিনের খেলোয়াড়দের প্রতি মেসির আচরণ বেশ সম্মানজনক ছিল। ম্যাচের দশম মিনিটে তাকে সম্মান জানাতে যখন খেলা থামিয়ে দর্শকেরা করতালি দেন, তখন বেনিনের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আলিঙ্গন-করমর্দন করেন মেসি।
তবে সেলফির এই ঘটনায় মেসির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। তার আচরণকে ‘নম্রতার অভাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন কেউ কেউ। তাদের যুক্তি, মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের অংশ ছিলেন বেনিনের খেলোয়াড়রা, তাই তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে কয়েক সেকেন্ড সময় দেওয়া উচিত ছিল।
বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয় আলোচিত মেক্সিকান অ্যাকাউন্ট ‘লা কাত্রিনা নর্তেনা’র একটি পোস্ট। সেখানে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘বিদায়ী অনুষ্ঠানে আফ্রিকান খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলতে চাননি মেসি। সেলফি তুলতে চাওয়া বেনিনের এক খেলোয়াড়কে এভাবেই সরিয়ে দিয়ে তিনি সোজা সামনে চলে যান।’
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কেউ মেসির সমালোচনা করে তাকে এমনকি বর্ণবাদী বলেও অভিযুক্ত করেন। আবার অনেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার পাশাপাশি মেসির পক্ষেও অবস্থান নেন।
‘ইউনিভার্সাডোর’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘মাঠে তার শেষ সময়েও কি মেসি স্বার্থপর, অহংকারী ও বর্ণবাদী ছিলেন? মনে হচ্ছে তাই।’
আরেকটি অ্যাকাউন্ট ‘আরএইচভি’ সরাসরি মন্তব্য করে, ‘বর্ণবাদী, আর আমরা সেটা ইতোমধ্যেই জানি।’
তবে মেসির সমর্থকরাও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। ‘মেনদুকা৬১’ নামের এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, বেনিনের খেলোয়াড়দের মেসির কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। কারণ, তখন অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছিল এবং পরে তাদের ছবি তোলার সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি লিখেছেন, ‘আগে তথ্য জেনে নিন, তারপর সমালোচনা করুন।’
অন্যদিকে লুইস লিনারেস নামের এক ব্যবহারকারী মেসির সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা মেসিকে নিয়ে মানসিকভাবে আচ্ছন্ন। আপনাদের অ্যান্টি-মেসি প্রচারণা তথ্য উপেক্ষা করছে। কারণ, এটি পক্ষপাতদুষ্ট ও অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ।’
ফলে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের রাতটি মেসির জন্য বিদায়ী আবেগঘন মুহূর্তের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে মেসি কেন ওই মুহূর্তে সেলফির আবদারে সাড়া দেননি, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।