বিদ্যালয়ে খেলাধুলা করছেন শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গেল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া পরিকল্পনা হিসেবে নেওয়া ৯ কর্মসূচিতেও এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই কোনো ক্রীড়া শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরাও এ নিয়ে হাতে-কলমে বিশেষ কোনো জানাশোনার সুযোগ-সুবিধাও পান না। একইসঙ্গে ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষাকে স্কুলগুলোতেও সেভাবে গুরত্ব দেওয়া হয় না। কেবল মাত্র জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ক্রীড়ার ওপর জোর দেওয়া হয়ে থাকে। এজন্য অনেক শিক্ষার্থীই ক্রীড়ার প্রতি মননিবেশ করতে পারেন না। তবে এসব বিষয় থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর। তাই চতুর্থ শ্রেণী থেকেই খেলাধূলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ তার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ ও ২, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি।
আমিনুল হকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ পাঁচটি ক্রীড়া বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪৯৫টি উপজেলায় প্রতিটি পাঁচটি ডিসিপ্লিনের জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক এবং একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সরকারি বেতনভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হবে।
এদিকে ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না দেশের অন্য সব খেলোয়াড়রা। এজন্য জাতীয় দলে সব খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনতে চান এবং খেলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের চেষ্টা করছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এই বিষয়টিও এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে তদারকি করবে।
অন্যদিকে ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন আমিনুল হক। এজন্য ৬৪টি জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনাসহ উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ, মহানগরসহ গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠ স্থাপন/উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া, দেশেই ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও কর্পোরেট সংস্থাকে খেলাধুলোয় স্পন্সরশিপের জন্য সম্পৃক্তকরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।