টেকনাম থানার মূল ফটক © সংগৃহীত
সেন্টমার্টিনে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোকক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার রাতে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
অভিযুক্তের নাম ওমর ফারুক। তিনি সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মো. নূর আহমেদের ছেলে এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় স্কুল শাখার সভাপতি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওমর ফারুক ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে স্বামী বাড়ি ফিরে এসে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে জানানো হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি পরদিন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে রাতেই অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, আমি মাছের ব্যবসার কারণে রাতে বাইরে ছিলাম। বাড়ি ফিরে দেখি ওমর ফারুক আমার স্ত্রীকে টানাটানি করছে। আমরা তাকে আটক করলে পরে তার স্বজনরা এসে আমার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানতে পেরে আমি রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরে ভুক্তভোগীর স্বামীর ওপর হামলার খবর পেয়েছি।
দ্বীপের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তারা বলেন, একটি গৃহবধূর ওপর নির্যাতনের পর আবার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অভিযুক্ত ওমর ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ওমর ফারুক আগে থেকেই আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করত। স্বামী না থাকায় জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি বিচার চাই।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ঘটনাটি আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।