বিসিবি লোগো © সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি।
বোর্ডটির আশঙ্কা, এ ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অতীতে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে স্থগিতও করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। তাই নতুন এই তদন্ত কমিটি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, ‘গেজেটের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব’ নিয়ে ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছুক তারা। ক্রীড়া পরিষদ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ১১ মার্চ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে গত নির্বাচনের সময় ‘অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার’-এর অভিযোগে তদন্ত শেষ করতে বলেছে তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির নেতৃত্ব পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। বিসিবির মতে, বর্তমান বোর্ডটি সংবিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে নির্বাচিত এবং প্রতিষ্ঠিত শাসন কাঠামোর অধীনে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বোর্ড বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
বিসিবি আরও জানায়, ওই গেজেট প্রকাশের ফলে নির্বাচিত বোর্ডের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসন কাঠামো অনুযায়ী একটি নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন যেকোনো পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আইসিসি।
বিসিবি উল্লেখ করেছে, আইসিসির বিধি অনুযায়ী কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে সরকারি বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে, তা আইসিসির শাসন ও কমপ্লায়েন্স কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনার বিষয় হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির সিনিয়র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এমন কোনো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে শাসনসংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইসিসির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় বিসিবি।