বিদেশে উচ্চশিক্ষা
ইউরোপের যেকোনো দেশে স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহীরা জেনে নিন সেরা দশ স্কলারশিপ সম্পর্কে © সংগৃহীত
পশ্চিমা দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই ইউরোপের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো ইউরোপের উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নত জীবনযাত্রা। অনেক ইউরোপীয় দেশে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আকর্ষণ। পাশাপাশি রয়েছে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণের সুবিধা এবং আকর্ষণীয় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের সুযোগ। এসব সুবিধার সমন্বয়েই শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় ইউরোপ মহাদেশ শীর্ষে।
আজ আমরা জানব ইউরোপের সেরা দশ স্কলারশিপ সম্পর্কে।
১. ড্যাড স্কলারশিপ
German Academic Exchange Service অথবা DAAD তাদের কার্যক্রম শুরু করে ১৯২৫ সালে। এই সংস্থাটি প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রোগ্রামের আওতায় আনুমানিক ১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে অর্থায়ন করে থাকে। যারা স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য DAAD স্কলারশিপ একটি দারুণ সুযোগ।
DAAD স্কলারশিপের জন্য সাধারণত ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন।
ড্যাড স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
আরও পড়ুন: জেনে রাখুন বিশ্বসেরা ২৯ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
২. ব্রিটিশ শেভেনিং স্কলারশিপ
এই স্কলারশিপটি ১৯৮৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপের আওতায় যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বিশ্বের প্রায় ১৪০টিরও বেশি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন।
শেভেনিং স্কলারশিপ একটি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাওয়া–আসার বিমান ভাড়া, আবাসন খরচসহ অধিকাংশ প্রয়োজনীয় ব্যয় কভার করে। কিছু খরচ প্রোগ্রাম ও দেশের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
শেভেনিং স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
৩. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ
Swedish Institute Scholarship-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে সুইডেনে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করা যায়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে।
এই স্কলারশিপ স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের পুরো টিউশন ফি ছাড়াও প্রতি মাসে উপবৃত্তি, ভ্রমণ অনুদান, স্বাস্থ্যবিমা ও ভিসা-সংক্রান্ত সুবিধা প্রদান করে থাকে।
সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
৪. আইফেল অ্যাক্সিলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
এটি ফ্রান্স সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত একটি জনপ্রিয় স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফ্রান্সের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ পান।
এই স্কলারশিপের আওতায় মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ১২ থেকে ৩৬ মাস এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য প্রায় ১০ মাস অর্থায়ন করা হয়ে থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, ম্যানেজমেন্ট, পলিটিক্যাল সায়েন্স ও ইকোনোমিক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে, যা বছরভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আইফেল অ্যাক্সিলেন্স স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষা: জেনে নিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুল-ফ্রি ১৬ স্কলারশিপ সম্পর্কে
৫. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট বার্সারিজ ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট
ইতালির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক কম টিউশন ফিতে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। স্কলারশিপ পেলে টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ জীবনযাত্রার খরচের সহায়তাও পাওয়া যায়।
এই স্কলারশিপ সাধারণত ডিগ্রি কোর্স, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য প্রদান করা হয় এবং এর মেয়াদ ৩, ৬ অথবা ৯ মাস হতে পারে, যা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বাড়তে পারে।
ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট বার্সারিজ ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
৬. সুইস গভর্নমেন্ট অ্যাক্সিলেন্স স্কলারশিপ
সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। এই কারণে সুইস সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Swiss Government Excellence Scholarship প্রদান করে থাকে।
এই স্কলারশিপ মূলত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ডক্টরাল ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য প্রদান করা হয়। এর আওতায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্য বিমা এবং অন্যান্য ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সীমিত সময় কাজ করার সুযোগ থাকতে পারে।
সুইস গভর্নমেন্ট অ্যাক্সিলেন্স স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
৭. রোডস স্কলারশিপ
Rhodes Scholarship বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ। ১৯০২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান।
এই স্কলারশিপ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্য বিমা ও যাতায়াত খরচ কভার করে। সুবিধাগুলো প্রোগ্রামভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
রোডস স্কলারশিপের স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
আরও পড়ুন: জেনে নিন মধ্যপ্রাচ্যের ১১ স্কলারশিপ সম্পর্কে
৮. গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ
Gates Cambridge Scholarship ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অনুদানে। এটি যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আগত মেধাবী শিক্ষার্থীদের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দেয়।
এই স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, বিমান ভাড়া ও ভিসা খরচ প্রদান করা হয়। নন-ইউরোপিয়ান শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে।
গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
৯. র্যাডবউড স্কলারশিপ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
Radboud University, নেদারল্যান্ডসের নিজমেগেনে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য Radboud Scholarship Program-এর আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বা আংশিক স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।
এই স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি ছাড়াও ভিসা, রেসিডেন্স পারমিট ও স্বাস্থ্য বিমার মতো খরচ কভার করা হতে পারে, যা প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হয়।
র্যাডবউড স্কলারশিপ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
১০. ডেভেলপিং সলিউশন স্কলারশিপ
Developing Solutions Scholarship-এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ পান।
এই স্কলারশিপ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়, যার আওতায় সম্পূর্ণ বা আংশিক টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। স্কলারশিপের সংখ্যা ও কভারেজ প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের নটিংহামে অবস্থিত একটি সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ১৮৮১ সালে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ১৯৪৮ সালে রাজকীয় চার্টারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ করা হয়।
ডেভেলপিং সলিউশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।