শিশুকে অপহরণ করে সাবলেট ভাড়াটিয়া, যেভাবে ধরল পুলিশ

২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৪ AM
শিশুকে অপহরণ করে সাবলেট ভাড়াটিয়া

শিশুকে অপহরণ করে সাবলেট ভাড়াটিয়া © সংগৃহীত

ছোট শিশু আছে এমন পরিবারের বাসায় সাবলেট হিসেবে উঠে শিশুদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতেন তারা। পরে সুযোগ বুঝে অপহরণ করতেন সেই শিশুদের। এরপর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে দাবি করতেন মুক্তিপণ। টাকা না দিলে দিতেন নির্যাতন ও হত্যার হুমকি।

সম্প্রতি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে চার বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় এমনই একটি দম্পতি ফয়সাল ও কাকলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, শিশুসহ পরিবারগুলোর বিশ্বাস অর্জন করেই তারা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা চালাতেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচরের আলীনগর এলাকায় আব্দুল হাদি নূর নামের চার বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয়। দুপুরে ঘুম থেকে উঠে নূরের মা দেখেন, তার সন্তান পাশে নেই। খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, পাশের সাবলেটে থাকা দম্পতিও নিখোঁজ। তাদের ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, শিশুটি তাদের কাছে আছে। তবে কিছুক্ষণ পরই তাদের ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে নিয়ে ওই দম্পতি বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শিশুর মায়ের ইমো নম্বরে এক ম্যাসেজে জানানো হয়, নূরকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে ফিরে পেতে দিতে হবে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

শিশুর মা জানান, ‘অপহরণকারীরা ইমোতে শুধু ম্যাসেজে কথা বলছিল, কিন্তু ফোন ধরছিল না। তারা এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে, না দিলে ছেলেকে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।’

বাধ্য হয়ে পরিবারটি প্রথমে ৫ হাজার টাকা পাঠায় অপহরণকারীদের কাছে। কিন্তু শিশুকে না পেয়ে তারা পুলিশে অভিযোগ করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই দিন ধরে অভিযান চালিয়ে মিরপুরের ক্লাসিক আবাসিক হোটেলে শিশুর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সেখান থেকে ফয়সাল ও কাকলী দম্পতিকে গ্রেফতার এবং অপহৃত নূরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, দম্পতিটি ১৫ দিন আগে আলীনগরের ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠে এবং নূরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে শিশুর মায়ের ঘুমের সুযোগ নিয়ে চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারা নিয়মিত আবাসিক হোটেলে ভাড়া থেকে পরবর্তী টার্গেট নির্ধারণ করত। এরপর সাবলেট হিসেবে কোনো বাসায় উঠে শিশু অপহরণ করে হোটেলে আটকে রাখত। মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হলে শিশু বিক্রিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডিএমপির কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অপহরণকারীরা পরিকল্পিতভাবে সাবলেট হিসেবে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। সুযোগ বুঝে তারা শিশুটিকে অপহরণ করে এবং পরে মুক্তিপণ দাবি করে।’

তিনি আরও জানান, ‘গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১৫-২০টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যার কোনোটিই তাদের নিয়মিত ব্যবহারের নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত।’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে, ‘সাবলেট দেয়ার আগে অবশ্যই ভাড়াটিয়াদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং তাদের পেশা ও উৎস যাচাই করা জরুরি, যাতে এই ধরনের অপরাধ থেকে পরিবারগুলো সুরক্ষিত থাকে।’

গ্রামীণ ওয়াটারের বোর্ড সভায় যোগ দিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ইবির হল প্রশাসনের
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন দুই রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল-রিজভী
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়াতে দরকার ২৮৫ কোটি টাকা
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
হাসপাতাল থেকে এলাকার মানুষের জন্য খুশির সংবাদ দিলেন ডা. মাহ…
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
নতুন দায়িত্বে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
  • ০৪ মার্চ ২০২৬