মেহেদী হাসান মিরাজ © সংগৃহীত
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু গত দুই মাস আগেও তার অধিনায়কত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, আর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও নিম্নমুখীই ছিল। তবে গেল মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর কিছুটা বদলায় পরিস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগে তাকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয় বিসিবি। তবুও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, আসন্ন বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত মিরাজই দলের নেতৃত্বে থাকবেন কি না।
এ নিয়ে মিরাজও বোধহয় কিছুটা চিন্তিতই। যে কারণে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগেও আলোচনায় তার অধিনায়কত্ব। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বিশ্বকাপেও তিনিই দলকে নেতৃত্ব দেবেন, এ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কি না? এমন প্রশ্নে কিছুটা বিস্মিত হলেও নিজেকে সামলে উত্তর দেন মিরাজ। যদিও তার কথায় স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। অনেকটাই ঘুরিয়ে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেটাও খুব পরিষ্কার হয়নি।
আসন্ন বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে মিরাজের ভাষ্য, ‘২০২৭ বিশ্বকাপ অনেক দূর। ওই পর্যন্ত যেতে গেলে প্রক্রিয়া মেনে যেতে হবে। সিরিজ ধরে ধরে ভালো খেলতে হবে। গত দুই সিরিজে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। খেলোয়াড়রাও আত্মবিশ্বাসী। লম্বা সময়ের জন্য নেতৃত্বে পেলে দলে ভালো বন্ডিং থাকে। আমি কখনই চাই না কেউ অল্প সময়ের জন্য অধিনায়ক হোক। সেক্ষেত্রে দলে বন্ডিং তৈরি করা কঠিন হয়। এটা খুব পজিটিভ দিক (লম্বা সময়ের দায়িত্ব দেওয়া)। খুব ভালোমতো পরিকল্পনা করতে পারব। খেলোয়াড়রাও মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকবে যে কার অধীনে আমরা খেলব। এটা ভালো দিক ছিল।’
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে আগামী বিশ্বকাপ। আর এশিয়ার বাইরে স্পিনার হিসেবে মিরাজের পারফরম্যান্সও খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয়, বরং গড়পড়তা। এ ছাড়া বিশ্বকাপের কিছু ভেন্যুতে বাংলাদেশকে ৪ পেসার নিয়ে খেলতে হতে পারে, এমন সম্ভাবনাও বেশ জোরালো। ফলে, স্পিনার হিসেবে তিনি একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। এই প্রশ্নের জবাবেও খুব একটা স্পষ্ট কিছু বলেননি মিরাজ।
তার ভাষ্যমতে, ‘পেস বোলাররা খুবই ভালো করছে শেষ কয়েক বছর ধরে। ওরকম পরিস্থিতি (উইকেট পেস সহায়ক) আসে অবশ্যই আমরা সেটা কাজে লাগানোর করার চেষ্টা করব। মুস্তাফিজরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে খুব ভালো বোলিং করেছে। শরিফুল এবং নাহিদ রানাও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন এবং বোলিংটা অনেক বেশি কাজে আসবে।’