ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক © টিডিসি ফটো
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ক্রিকেট কিংবা ফুটবল—কোনো জায়গাতেই অনিয়ম করে পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। বিগত ১৭ বছর এবং শেষ দেড় বছরে ক্রিকেট বোর্ডে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন পরিচালকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়াঙ্গনে অনেকের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, এখানে দুর্নীতি করলেও কিছু হয় না। তবে বর্তমান সরকার এই মানসিকতা বদলে দিতে বদ্ধপরিকর। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদেও ইতিমধ্যে এই বিষয়ে কথা হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে আসা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের মানুষ খুব দ্রুতই এই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পূর্বাচলের বহুল আলোচিত ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এর আগে অ্যাডহক কমিটির সদস্য তামিম ইকবাল ও ফাহিমসহ তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিগত সময়ে এই স্টেডিয়াম নির্মাণের ক্ষেত্রে পরামর্শক নিয়োগসহ কিছু প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত অনিয়ম ও অসচ্ছতার আভাস পাওয়া গেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিসিবি সভাপতিকে খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।
দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে জড়িয়ে থাকা এই প্রকল্পটিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আগের প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমিনুল হক আরও বলেন, পূর্বাচলে শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, বরং একটি আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মিত হতে যাচ্ছে। এই কাজের সাথে যারা যুক্ত হবেন, তাদের যোগ্যতা বিবেচনা করেই কাজ দেওয়া হবে। নতুন এই আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। পূর্ববর্তী সময়ে এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত থেকে যদি কেউ কোনো অনিয়ম করে থাকেন, তবে বিসিবি সভাপতিসহ বোর্ডের নতুন পরিচালকেরা তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
নতুন বোর্ড সভাপতি ও পরিচালকদের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সব আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে যত দ্রুত সম্ভব পূর্বাচল স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু এবং সম্পন্ন করা হবে।