যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনে কী কী ডকুমেন্টস প্রয়োজন, জেনে নিন পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা

৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ PM
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা © সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির কারণে বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করেন। তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষার ফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন শর্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই শুরুতেই বিভ্রান্ত হন। তাই আবেদন থেকে ভর্তি-পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত কী কী প্রয়োজন হয়, তা এক নজরে তুলে ধরা হলো।

আবেদন করার সময় যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে সাধারণত নিচের নথিগুলো জমা দিতে হয়।

একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

প্রথমেই প্রয়োজন হয় শিক্ষাজীবনের ফলাফলের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট।

অনার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট
মাস্টার্স সম্পন্ন থাকলে মাস্টার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিকভাবে আনঅফিশিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট দিয়েও আবেদন গ্রহণ করে।

ডিগ্রি বা সনদপত্র

আবেদনকারীকে সাধারণত জমা দিতে হয়—

অনার্সের সনদপত্র
মাস্টার্সের সনদপত্র (যদি সম্পন্ন থাকে)

স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট

আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি)। এখানে আবেদনকারীকে ব্যাখ্যা করতে হয়—

কেন ওই প্রোগ্রামে আবেদন করছেন
নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণার অভিজ্ঞতা
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের সঙ্গে নিজের আগ্রহের মিল

সুপারিশপত্র (Recommendation Letter)

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ২ থেকে ৩টি সুপারিশপত্র চায়।

এসব সুপারিশপত্র সাধারণত দেওয়া হয়—

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক
কর্মক্ষেত্রের সুপারভাইজার

ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়।

সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য পরীক্ষাগুলো হলো—

IELTS Academic
TOEFL iBT
Duolingo English Test (যদি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করে)

তবে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আগের ডিগ্রি যদি ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তাহলে ভাষা পরীক্ষার শর্ত থেকে অব্যাহতি (Waiver) পাওয়া যেতে পারে।

GRE বা GMAT কি প্রয়োজন?

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে GRE বাধ্যতামূলক নয়।

অনেক প্রোগ্রামে GRE General Test প্রয়োজন হয়।
বিজনেস প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে GMAT অথবা GRE গ্রহণ করা হয়।
বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় GRE-কে Optional অথবা Not Required করেছে।

একাডেমিক সিভি

আবেদনের সঙ্গে একটি একাডেমিক সিভি বা রেজ্যুমে জমা দিতে হয়।

এতে সাধারণত উল্লেখ থাকে—

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গবেষণা ও প্রকাশনা
চাকরি বা শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা
কনফারেন্স, প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার
সফটওয়্যার ও গবেষণাসংক্রান্ত দক্ষতা

রাইটিং স্যাম্পল

বিশেষ করে নিচের বিষয়ে পিএইচডি বা গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে রাইটিং স্যাম্পল প্রয়োজন হতে পারে—

Humanities
Social Sciences
Politics
Sociology
English
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ

রাইটিং স্যাম্পল হিসেবে জমা দেওয়া যায়—

টার্ম পেপার
থিসিসের অধ্যায়
প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ

গবেষণা প্রস্তাব (Research Proposal)

অনেক গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হয়।

এতে সাধারণত থাকে—

গবেষণার প্রশ্ন
বিদ্যমান গবেষণার সীমাবদ্ধতা
তাত্ত্বিক কাঠামো
গবেষণা পদ্ধতি
প্রত্যাশিত অবদান

অনলাইন আবেদনপত্র

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনলাইন পোর্টালে আবেদনপত্র পূরণ করতে হয়।

আবেদন ফি

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আবেদন ফি দিতে হয়।

সাধারণত ৭০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার
আর্থিক অসুবিধা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে Fee Waiver-এর আবেদন করা যায়।

পাসপোর্টের কপি

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করার সময়ই পাসপোর্টের কপি চায়।

আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর এটি জমা দিতে বলে।

একাডেমিক ক্রেডেনশিয়াল মূল্যায়ন

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন চায়।

এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়—

WES
ECE
অথবা অন্যান্য স্বীকৃত মূল্যায়ন সংস্থা

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

পোর্টফোলিও

নিচের বিষয়গুলোতে আবেদন করলে পোর্টফোলিও প্রয়োজন হতে পারে—

Architecture
Design
Fine Arts
Film
অন্যান্য Creative Program

সাক্ষাৎকার

কিছু প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

যেমন—

PhD
MBA
Competitive Graduate Program

সাক্ষাৎকার সাধারণত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা ভর্তি কমিটি নিয়ে থাকে।

পিএইচডি আবেদনে যেসব বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়

পিএইচডি আবেদন মূল্যায়নের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতিরিক্তভাবে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

এর মধ্যে রয়েছে—

সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার সঙ্গে আবেদনকারীর গবেষণার মিল
গবেষণার অভিজ্ঞতা
থিসিস বা রাইটিং স্যাম্পল
গবেষণা প্রকাশনা
কনফারেন্সে গবেষণাপত্র উপস্থাপন
গবেষণা প্রস্তাব (যেখানে প্রয়োজন)
সম্ভাব্য ফ্যাকাল্টির সঙ্গে যোগাযোগ (সব বিভাগে বাধ্যতামূলক নয়)

ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর যেসব নথি লাগে

ভর্তি হওয়ার পর সাধারণত আরও কিছু অফিসিয়াল কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

এর মধ্যে রয়েছে—

অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট
অফিসিয়াল সনদপত্র
ফান্ডিং না থাকলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
স্পনসরশিপ লেটার (যদি অন্য কেউ খরচ বহন করেন)
Funding বা Assistantship Letter
পাসপোর্টের তথ্য
I-20 Request Form
টিকাদান ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শর্ত ভিন্ন হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেদন করার আগে অবশ্যই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের Admission Requirements পেজ ভালোভাবে পড়া উচিত। কারণ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ভিন্ন বিভাগের ভর্তি শর্তও এক নাও হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষার শর্ত, সময়সীমা এবং অতিরিক্ত নির্দেশনা যাচাই করলে ভুলের ঝুঁকি কমে এবং ভর্তির সম্ভাবনাও বাড়ে

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চে…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন কখন করবেন, করণীয় কি …
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থা…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
কলাবাগানের হোস্টেলে দরজা ভেঙে নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মর…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
পাটওয়ারীকে ছাড়া যেখানেই যান, এনসিপির পাশে থাকবে বিএনপি: রাশ…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনে কী কী ডকুমেন্টস প…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬