বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম © টিডিসি ফটো
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে এখনো অটল রয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা। আলটিমেটামের ১২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তিনি পদত্যাগ না করায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। গতকাল ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর আজ দুপুর ১টায় বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগপর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। তবে সেই সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান আসেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছেন ক্রিকেটাররা। এর প্রভাব পড়েছে মাঠের খেলাতেও। আজ বিপিএলের দুপুরের ম্যাচে অংশ নিতে যাওয়া দুই দল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস এখনো মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পৌঁছায়নি। যদিও বিসিবির কয়েকজন পরিচালক ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে ক্রিকেটাররা তাঁদের দাবিতে কোনো ছাড় দিতে রাজি হননি। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে নাজমুল ইসলামকে অর্থ বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ক্রিকেটাররা কেবল তাঁর পূর্ণ পদত্যাগই চাইছেন।
বিসিবি আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে বোর্ডের এই অবস্থানে ক্রিকেটারদের মন গলেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের নেতৃত্বে আজ দুপুর ১টায় বনানীতে একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ক্রিকেটারদের এই আন্দোলনের কারণে গতকাল গভীর রাতে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের খেলাও স্থগিত করা হয়েছে।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বিসিবির একটি দোয়া মাহফিল শেষে নাজমুল ইসলামের করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারলে খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি বোর্ড পুষিয়ে দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাইছি নাকি!’
এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’ তাঁর এই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন ক্রিকেটাররা।