যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, রাউজানে ৫ আগস্টের পর দেড় ডজন হত্যাকাণ্ড

০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ PM , আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ PM
নিহত যুবদল নেতা জানে আলম

নিহত যুবদল নেতা জানে আলম © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে জানে আলম নামে একজন যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান জানে আলম। এ নিয়ে ৫ আগস্টের পর এক উপজেলাতেই রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

জানা গেছে, নিহত জানে আলম রাউজানের সাবেক সাংসদ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতির কয়েকটি ঘটনার পর তিনি কিছুদিন ধরে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। পরিবার বলছে, তার কোনো শত্রুতা ছিল না। হঠাৎ কেন তাকে টার্গেট করা হল, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবারের আগে জানে আলম বাসার গেটের সামনের উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজন এসে দাঁড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন খুব কাছে গিয়ে তার বুকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করেন। এরপর দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার কয়েক মিনিট পরই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মুঠোফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

উল্লেখ্য, রাউজানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয় অন্তত শতাধিকবার। ৩৫০ জনের বেশি মানুষ এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অপহরণের পর হত্যার শিকার হন আবদুল মান্নান (২৮)। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর একটি গলির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ইউসুফ মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ। ১১ নভেম্বর চিকদাইরে হাফেজ আবু তাহের (৪৮) নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫৫)। ১৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াপাড়ায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ হাসানকে (৩৫)। এরপর ১৫ মার্চ হলদিয়ায় ইফতার বিতরণ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় নিহত হন কমর উদ্দিন জিতু (৩৬)। ২১ মার্চ পূর্বগুজরায় গরুচোর সন্দেহে জনতার হাতে গণপিটুনিতে নিহত হন মো. রুবেল (৩৫), যাতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার অনুসারীদের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ আছে। ১ এপ্রিল পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধে খুন হন নূর আলম বকুল (৪৩)। ১৭ এপ্রিল পাহাড়তলী ইউনিয়নে মো. জাফরের (৪০) লাশ উদ্ধার করা হয়। একই মাসে বিএনপিকর্মী মানিক আবদুল্লাহ (৩৬) নিজ দলের লোকজনের হাতে গুলিতে নিহত হন।

পরে ২২ এপ্রিল রাউজান সদর ইউনিয়নের গাজিপাড়ায় গুলি করে হত্যা করা হয় ইব্রাহিমকে (২৮)। ৩ জুলাই উরকিরচরে কিশোরদের ধূমপান নিয়ে বিরোধ থামাতে গিয়ে তাদের হামলায় প্রাণ হারান মো. আলমগীর। ৬ জুলাই কদলপুরে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ সেলিমকে (৪০)। ১০ জুলাই বেতবুনিয়ার লুঙ্গিপাড়ায় উদ্ধার করা হয় দিদারুল আলমের (৪০) লাশ। তার মৃত্যু রহস্যজনক ছিল বলে অভিযোগ আছে। ২৫ জুন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যুগীপাড়া বোট ঘাট এলাকায় বালিচাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায় রুপন নাথের (৩৭) লাশ। ৭ অক্টোবর খুন হন বিএনপির কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২)। ২৫ অক্টোবর যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমকে গুলি করে খুন করা হয়।

নিহতদের বেশিরভাগই বিএনপির নেতাকর্মী। তবে এর মধ্যে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও রয়েছেন। তারা হলেন— আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের জয়ের পেছনে ‘গুপ্ত রাজনীতি’সহ ত…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত রাবিপ্…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইস্টার্ন ব্যাংক নিয়োগ দেবে ট্রেইনি অফিসার, আবেদন অভিজ্ঞতা ছ…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, বাংলাদেশের ম্যাচ কবে কখন
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
শীতে কষ্ট পাওয়া ঢাবির আবাসিক হলের বিড়ালদের শেল্টার বক্সের ব…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬