বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদধারী দুই শিক্ষককে বেতন প্রদানে সহযোগিতার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জোনাব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এনটিআরসিএ কর্তৃক সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ার পরও ওই শিক্ষকদের সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
বুধবার বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে এই তদন্ত পরিচালনা করেন।
তদন্ত শেষে নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সরবরাহকৃত সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতাদি এখনো প্রতিষ্ঠান প্রধান চালু রেখেছে সেটা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এই সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুতই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিদ্যালয়টির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক বাবুল আকতার ২০১১ সালে এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান ২০০৮ সালে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পান। গত ১৩ অক্টোবর এনটিআরসিএ-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দুই শিক্ষকের দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রের সাথে দাপ্তরিক ফলাফলের কোনো মিল নেই এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এনটিআরসিএ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাদের বেতন সচল রাখেন।
অভিযোগের বিষয়ে বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জোনাব আলী বলেন, ‘আজ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার এসেছিলেন। এরপর তিনি সব কাগজপত্র নিয়ে গেছেন।’ স্থানীয় এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া এই তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই অবৈধ আর্থিক সুবিধা ভোগের বিষয়টি সামনে এল।