টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটি © টিডিসি
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে ১৩ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও শ্রমিকরা; স্থবির হয়ে আছে সীমান্ত বাণিজ্য। এ অচলাবস্থা কাটাতে এবং বন্দরটি দ্রুত সচল করতে এখন নবনির্বাচিত সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আশায় প্রহর গুনছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
অভিযোগ রয়েছে, কেবল মিয়ানমারের বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান আর্মির উৎপাতের অজুহাত দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অসহযোগিতায় এত দিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে স্থলবন্দর। ব্যবসা বন্ধ থাকায় একদিকে দেশের ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা এখন বলছেন, তারা আরাকান আর্মির বিষয়টি নিজেরা ম্যানেজ করে পণ্য পাঠাতে রাজি। কিন্তু স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনো গ্রিন সিগন্যাল না দেওয়ায় শুরু হচ্ছে না পুরো কার্যক্রম।
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যাংক ঋণের কিস্তি, অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এখন তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবেতর জীবন কাটছে শ্রমিকদের বন্দরকেন্দ্রিক জীবন ও জীবিকা যাদের, সেই শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। দীর্ঘ সময় কাজ না থাকায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম আক্ষেপ করে বলেন, ‘১৩ মাস ধরে কাজ নেই, সংসার অচল হয়ে গেছে। ধারদেনা করে দিন কাটছে, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছি না। বন্দর চালু না হলে আমাদের টিকে থাকা অসম্ভব।’
রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
টেকনাফ বন্দর দিয়ে আগে নিয়মিত কাঠ, শুঁটকি, আদা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হতো, যা থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত। বর্তমান অচলাবস্থার কারণে সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে স্থাপিত স্থলবন্দর শিগগিরই যাতে সচল করা যায় সেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। আমি আশাবাদী এই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।’
ব্যবসায়ীরা এলসি করে ব্যাংকের মাধ্যমে এ পরিমাণ ডলার পাঠিয়েছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীদের কাছে। কিন্তু পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের এই ডলার আটকা পড়েছে মিয়ানমারে।
টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনায় নিয়োজিত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন শিগগিরই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।