যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেলেন জবি শিক্ষার্থী তিলোত্তমা 

০৪ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ AM , আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:২৪ PM
জবি শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায়

জবি শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায় © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল-ফান্ডেড) পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য এ স্কলারশিপ অর্জন করেন।

দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, একাডেমিক কৃতিত্ব ও গবেষণার প্রতি নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

তিলোত্তমা রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। স্নাতক পর্যায়ে তিনি ৩.৯৪ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৩ সিজিপিএ অর্জন করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএস এ ৬.৫ স্কোর অর্জন করেন।

তবে খুব একটা সহজ ছিলো না তার এ অর্জনের পথ । স্নাতকোত্তর অধ্যয়নকালে একদিকে ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণা, অন্যদিকে চাকরির দায়িত্ব সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে তাকে। প্রথমে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অফিসার মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) থিসিস গবেষণার কাজ করেন। পরবর্তীতে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে গত ২০২৪ সালে প্রথম দফায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তিলোত্তমা। ওই সময় একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক অর্থায়নের সুযোগ পেলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে আরও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও গবেষণার অভিজ্ঞতা নিয়ে পুনরায় আবেদন করেন এবং ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি অফার অর্জন করেন।

আরও পড়ুন : লম্বা ছুটি শেষে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফিরছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

তিলোত্তমা রায় বলেন, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণা অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) আমাকে এ সাফল্য অর্জনে সহায়তা করেছে। মাস্টার্সের সময় একসঙ্গে চাকরি, ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার কাজ করেছি। সময়টা খুব কঠিন ছিল, কিন্তু আমি কখনো থেমে যাইনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার একাডেমিক ফলাফল এবং একসঙ্গে এতগুলো দায়িত্ব সফলভাবে পালনের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।’

গবেষণার ক্ষেত্রেও ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন তিনি। তার একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আরও একটি গবেষণা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে এবং নতুন একটি গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য ওরাল ভ্যাকসিন নিয়ে তার গবেষণা ভাবনা ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বলে জানান তিনি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিলোত্তমা বলেন, ‘এটা আমার নিজের সঙ্গে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কতদূর এগোনো সম্ভব। আমি সেই সমালোচনাগুলোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি। সবসময় বিশ্বাস করেছি, কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই অর্জন আমার দীর্ঘ সংগ্রাম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের ফল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন শুধু বিদেশে পড়াশোনা করা নয়, গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। ভবিষ্যতে গবেষণার ফলাফল দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, অলিম্পিয়াড এবং পেশাভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন তিলোত্তমা। সংশ্লিষ্টদের মতে, তার এই অর্জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, পড়াশোনা ও চাকরির চাপ এবং নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিলোত্তমা রায় প্রমাণ করেছেন যে, অধ্যবসায়, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।  

চার জেলায় ৩টার মধ্যে বজ্রপাতের সতর্কবার্তা, ঘরে থাকার পরামর…
  • ০৪ জুন ২০২৬
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার সময় …
  • ০৪ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মেলেনি, মেক্সিকো গেল ইরান দল
  • ০৪ জুন ২০২৬
জার্মানিতে বিনা মূল্যে ডক্টরাল প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ, ক…
  • ০৪ জুন ২০২৬
ইউএনওর অভিযানে বাল্যবিবাহ বন্ধ, বরকে জরিমানা
  • ০৪ জুন ২০২৬
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • ০৪ জুন ২০২৬