প্রায় পাঁচ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। © টিডিসি ছবি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রাতের আঁধারে টিনের ঘেরাবেড়া দিয়ে দখলে নেওয়া প্রায় পাঁচ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ টিনের ঘেরাবেড়া উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় দখলের উদ্দেশে নির্মিত ঘেরাবেড়া জব্দ করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘সরকারি জমি দখলের চেষ্টার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কেউ সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের অজান্তে শুক্রবার দিবাগত রাতে সরকারি জমিটি টিনের ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করা হয়। উদ্ধার হওয়া জমিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টাঙানো হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পর্যটন শিল্পের বিকাশে ২০০৩ সালে সমুদ্রসৈকতের হোটেল-মোটেল জোনে ১৩০ একর সরকারি খাসজমি নিয়ে ৮৭টি প্লট তৈরি করে ৯৯ বছরের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণ না করায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৫৯টি প্লটের ইজারা বাতিল করা হয় এবং সেসব জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ইজারা বাতিল হওয়া সরকারি ওই জমির প্রায় পাঁচ একর শুক্রবার গভীর রাতে টিন ও বাঁশের ঘেরাবেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় দোকানিদের দাবি, মধ্যরাতের পর অর্ধশতাধিক শ্রমিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। একই এলাকায় জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা আরো ৫ থেকে ৬ একর জমিতে মাছ চাষের ঘেরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে সরকারি সম্পত্তি দখলের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শনিবার স্থানীয় পর্যটনসেবী ও বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে অবৈধ ঘেরাবেড়ার কিছু অংশ ভেঙে দেন। পরে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকা দখলমুক্ত করলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
প্রসঙ্গত, গত বছরও সমুদ্রসৈকত এলাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি রাতারাতি দোকানপাট নির্মাণের মাধ্যমে দখল করা হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে সেগুলো উচ্ছেদ করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।