‘এআইয়ের মাধ্যমে আরও দক্ষভাবে একাডেমিক কাজ: ব্যবহারিক উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক সেমিনার। © টিডিসি ছবি
উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর, নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘এআইয়ের মাধ্যমে আরও দক্ষভাবে একাডেমিক কাজ: ব্যবহারিক উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি ও হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ। দুপুর সাড়ে ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও একাডেমিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সেমিনারে মূল বক্তা ও প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডনে উইপ্রো লিমিটেডের পরিচালক এনামুল হক। তিনি শিক্ষাদান, গবেষণা, একাডেমিক লেখালেখি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় গবেষণার বিভিন্ন ধাপকে সহজ ও কার্যকর করতে এআই কীভাবে সহায়ক হতে পারে, তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সাহিত্য পর্যালোচনা, নথি বিশ্লেষণ, একাডেমিক লেখালেখি এবং গবেষণা ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি কাজের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর ব্যবহার হতে হবে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ। এ ক্ষেত্রে গবেষণার সততা বজায় রাখা, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং এআই ব্যবহারের যথাযথ প্রকাশ নিশ্চিত করা জরুরি।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ এবং একাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সরাসরি ব্যবহারিক প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন একাডেমিক কাজে এআইয়ের প্রয়োগ দেখানো হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মূল বক্তা এনামুল হক।
প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়। পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আরও কার্যকরভাবে সমন্বিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সেমিনারে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।