তেল রপ্তানি ছাড়াই কত দিন টিকে থাকতে পারবে ইরান, জানালেন বিশ্লেষকরা

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ PM
 ইরানের তেলক্ষেত্র

ইরানের তেলক্ষেত্র © সংগৃহীত

মার্কিন অবরোধের মুখে কোনো প্রকার তেল রপ্তানি না করেই ইরান অনায়াসে দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দেশটির টিকে থাকার এই সক্ষমতার কথা জানান।

বর্তমানে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চললেও তেহরানের বিশাল পরিমাণ তেল মজুত রাখার সক্ষমতা তাদের বড় ধরনের স্বস্তি দিচ্ছে। তবে স্থলভাগের তেল সংরক্ষণাগারগুলো পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে গেলে তখন তেল উত্তোলনের হার কমাতে বাধ্য হবে ওপেকভুক্ত এই দেশ ওপেকভুক্ত এই দেশটি।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্টইসিএ এক বিশেষ নোটে জানিয়েছে, ‘বর্তমানের ইরানের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল। কোনো রপ্তানি না করেই দেশটি প্রায় দুই মাস এই উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে। আর দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হ্রাস করলে এটি তিন মাস পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবে।’ তাদের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের তেল শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে। এছাড়া ইরানের স্থলের সংরক্ষণাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রাখার সুযোগ আছে এবং সব মিলিয়ে তাদের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল দেশ হলো চীন। বর্তমানে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠায় ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের ফলে এই বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে এমনিতেই জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল। এমন পরিস্থিতিতে যদি ইরানের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব বাজার প্রতিদিন এক কোটি ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেলের সরবরাহ হারাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে তেলের দামে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে।

এদিকে পরিবেশগত গোয়েন্দা তথ্য ও ভূ-বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কাইরোস ও এনার্জি অ্যাসপেক্টসের গবেষণায় কিছুটা ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মতে, ইরানের স্থলভিত্তিক সংরক্ষণাগারগুলোর সক্ষমতা এফজিই-র ধারণার চেয়েও কম, যা প্রায় ৩ কোটি ব্যারেলের মতো। এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে, প্রতিদিন ১৮ লাখ ব্যারেল রপ্তানির হারের ভিত্তিতে ইরান তার বর্তমান স্তর বড়জোর ১৬ দিন ধরে রাখতে পারবে। এরপরই তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে হবে।

এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এই অবরোধ এপ্রিলে ইরানের উৎপাদনে সম্ভবত উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না, কিন্তু এটি যদি মে মাসেও চলতে থাকে তাহলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে হবে।’ যদিও বিশ্লেষকদের এসব পর্যবেক্ষণ ও সক্ষমতার বিষয়ে ইরানের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত রয়টার্স বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে সামনের দিনগুলোতে ইরান কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব বাজার।

স্বাস্থ্যসেবায় বিএমইউ হবে এশিয়ার সেরা ইনোভেশন হাব
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় ও অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের …
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হাওরে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাড়ে ৮টার মধ্যে প্রবেশ নিয়ে যে নির্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় ও অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের …
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জবি প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি হলেন শাহরিয়ার হোসেন
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬