ভূমিকম্প আঘাত © সংগৃহীত
ভারতের সিকিম রাজ্যের রাজধানী গ্যাংটকের কাছে ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে এ ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, গ্যাংটক থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দূরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। গ্যাংটক জেলার নিকটে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার এ ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে আঘাত হানে এবং এর গভীরতা ছিল ৮৪ কিলোমিটার। এটি বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ভূমিকম্পের সঠিক মাত্রা, উপকেন্দ্র ও গভীরতা পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা বা মিনিটের মধ্যে সংশোধিত হতে পারে, কারণ ভূকম্পবিদরা তথ্য পর্যালোচনা ও গণনা পরিমার্জন করছেন। অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদনও এ তথ্যের পরিবর্তন আনতে পারে।
পরবর্তীতে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) দ্বিতীয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৩ দশমিক ৭ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আজ বাজারে সোনার ভরি কত?
উপকেন্দ্রের কাছাকাছি যেসব শহর ও জনপদে হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মাঙ্গান (জনসংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৬০০), এটি উপকেন্দ্র থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে; গ্যাংটক (প্রায় ১ লাখ ৩শ জন), ২৪ কিলোমিটার দূরে; রংপো (প্রায় ১০ হাজার ৫০০), ৪২ কিলোমিটার দূরে; কালিম্পং (প্রায় ৪৩ হাজার), ৫৫ কিলোমিটার দূরে; দার্জিলিং (প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮০০), ৭১ কিলোমিটার দূরে; কার্শিয়াং (প্রায় ৪৬ হাজার ৪০০), ৮৩ কিলোমিটার দূরে; থিম্পু (প্রায় ৯৮ হাজার ৭০০), ৮৯ কিলোমিটার দূরে; শিলিগুড়ি (প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬০০), ৯৪ কিলোমিটার দূরে; গয়েরকাটা (প্রায় ৬৬ হাজার ৪০০), ৯৪ কিলোমিটার দূরে; এবং জয়গাঁও (প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০), ৯৭ কিলোমিটার দূরে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। কম্পনটির উৎপত্তি ঢাকা থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভারতের সিকিমে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও নেপাল, ভুটান ও চীনে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। তথ্যসূত্র: ভলকানোডিসকভারি