প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের একটি নতুন ধরনের (স্ট্রেন) প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই রোগের কারণে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হলেও বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো কম।
এবারের প্রাদুর্ভাবটি নিয়ে বেশি উদ্বেগের মূল কারণ হলো এর পেছনে রয়েছে ‘বুন্দিবুগিও’ নামের একটি বিরল স্ট্রেন, যার নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রথমত, রোগটি শনাক্ত করতে প্রায় চার সপ্তাহ দেরি হয়ে গেছে; দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন; এবং তৃতীয়ত, আক্রান্ত অঞ্চলটিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এখনো ব্যাপকভাবে চলছে। ইবোলা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল (রক্ত বা বমি), মলমূত্র বা সংস্পর্শে আসা বস্তুর মাধ্যমে ছড়ায় এবং লক্ষণ প্রকাশের আগে সাধারণত এটি সংক্রামক হয় না।
বর্তমানে কঙ্গো ও উগান্ডায় অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং আরও প্রায় ৬০০ জন সম্ভাব্য আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। উগান্ডায় প্রথম রোগীটি কঙ্গো থেকে এসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান, যার প্রেক্ষিতে উগান্ডা সরকার ইতোমধ্যে নজরদারি ও স্ক্রিনিং জোরদার করেছে।
জানা গেছে, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালু শহরে গত এপ্রিল মাসে প্রথম এক স্বাস্থ্যকর্মী সাধারণ জ্বর ও বমি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ইবোলার সাধারণ লক্ষণ (রক্তক্ষরণ) না থাকায় এবং কঙ্গোর সাধারণ স্ট্রেন ‘জাইর’-এর টেস্ট নেগেটিভ আসায় রোগটি প্রথমে ধরা পড়েনি। গত ৫ মে ওই রোগী মারা যাওয়ার পর স্থানীয় রীতি অনুযায়ী পরিবার ও আত্মীয়রা মরদেহ স্পর্শ করেন ও কফিন ছাড়াই দাফনের আয়োজন করেন। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকেই ভাইরাসটি মূলত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ল্যাব টেস্টে এটি বুন্দিবুগিও স্ট্রেন হিসেবে শনাক্ত হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলার সামগ্রিক মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ২০০৭ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের মৃত্যুহার ছিল ৩২ শতাংশ। এটি অন্য স্ট্রেনের চেয়ে কিছুটা ধীর গতিতে ছড়ালেও শরীরে বেশি দিন থেকে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই স্ট্রেনের নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে; তাই আপাতত ডিহাইড্রেশন দূর করা, অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো সহায়ক চিকিৎসার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।