ইতোমধ্যে কঙ্গোতেই ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে © টিডিসি সম্পাদিত
আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও মারাত্মক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ইতোমধ্যেই ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার এই বিশেষ ধরনটির কোনো কার্যকর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন চিকিৎসকদের হাতে নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ নামক এই ধরনের প্রাদুর্ভাবকে ‘উদ্বেগজনক বৈশ্বিক পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ বা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা (আইএইচআর) অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কঙ্গোয় প্রকৃতপক্ষে কতজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর বিস্তৃতি কতদূর পর্যন্ত ঘটেছে, তার সুনির্দিষ্ট চিত্র এখনো অস্পষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতিকে এখনই ‘অতিমারি’ হিসেবে আখ্যা না দিলেও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ) বড় পরিসরে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাকাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা মূলত একটি জুনোটিক রোগ, যা প্রথম বাদুড়ের মাধ্যমে মানবশরীরে ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, বমি এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল (অর্গান ফেইলিউর) করে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত ৫০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ইবোলার বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এই ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, ঘাম, রক্ত বা শরীরের যেকোনো তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে অন্য মানুষও এতে সংক্রমিত হয়। সাধারণত শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
গত অর্ধশতাব্দীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ভ্যাকসিন প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি সত্ত্বেও কেবল আফ্রিকা মহাদেশেই ইবোলার আঘাতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত বছরের আগস্টেও কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে এই ভাইরাসের আরেকটি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, যা এবার নতুন রূপে ফিরে এসে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।