ঢাবি ছাত্রের ফেসবুক স্ট্যাটাস
আহত শিক্ষার্থীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় © সংগৃহীত
ভিআইপি প্রটোকলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ঢাবির এক শিক্ষার্থীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে গিয়ে একাধিকবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মু. আশিকুর রহমান আফফান নামের এক শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে অভিযোগ করে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ওই শিক্ষার্থী।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে মানুষের জীবনের চেয়ে প্রোটোকল বড়—এ কথা আজ নিজের চোখে দেখলাম।’
ঢাবি শিক্ষার্থী আশিক লেখেন, ‘আজ রাত ১১টার দিকে মহসীন হলের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪-২৫ সেশনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আব্দুর রহিম ইরহাম বাইক এক্সিডেন্ট করে। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ছেলেটা দাঁড়াতে পারছে না; হাত-পা দিয়ে রক্ত ঝরছে। খবর পেয়ে ক্যাম্পাসের আরও কয়েকজন বড় ভাই আসেন। কোনোভাবে রক্তাক্ত ইরহামকে রিকশায় তুলে আমরা মর্তুজা মেডিকেলের দিকে রওনা দিই। জগন্নাথ হলের সামনে এসে রিকশা আটকে দেওয়া হয়। জানানো হয়—এই পথে যাওয়া যাবে না, ভিআইপি প্রোটোকল চলছে।’
আরও পড়ুন: প্রথা ভেঙে শহীদ মিনারের বেদিতে দোয়া প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের, আলোচনায় সরগরম ফেসবুক
তিনি দাবি করেন, ‘তার অবস্থা দেখে পুলিশ আমাদের যেতে দিলেও একটু সামনে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রিকশা থামায়। সময় তখন প্রতিটা সেকেন্ডে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত আমরা দু-তিনজন মিলে বন্ধুকে কোলে নিয়েই দৌড়াতে শুরু করি। পথে পথে জিজ্ঞাসাবাদ। থামানো। আবার এগোনো। যেন আহত একজন মানুষ নয়, কোনো সন্দেহভাজনকে নিয়ে যাচ্ছি। অবশেষে দায়িত্বরত একজন মেজর আমাদের সঙ্গে হেঁটে মর্তুজা মেডিকেল পর্যন্ত পৌঁছে দেন।’
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ড্রেসিং শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সও বারবার থামানো হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। যে পথ পাড়ি দিতে ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা কেটে যায়। এখন অসুস্থ বন্ধুর পায়ের পাশে বসে দেখছি— দেশের সরকারি দল, বিরোধী দলীয় প্রধানদের শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ চলছে, শহীদদের স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে। এই দেশে প্রটোকল বড়, নাকি মানুষের জীবন?
স্ট্যাটাসের মন্তব্যে মু. আশিকুর রহমান আফফান আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়ে জানান, ইরহামের হাঁটুতে সেলাই লেগেছে এবং হাঁটুতে ফ্র্যাকচার হয়েছে। হাতে আঘাত লাগলেও হাড় ভাঙেনি। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
প্রসঙ্গত, একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ও বিদেশি অতিথিবৃন্দের আগমনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সেখানে কাজ করছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে শহীদ মিনার এলাকার সাতটি জায়গায় ‘ডাইভারশন’ (বিকল্প পথে যাওয়া) দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চাঁনখারপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও বকশীবাজার ক্রসিং। শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে।