মার্কিন সামরিক বিমান © টিডিসি ফটো
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের করা দুটি সামরিক বিমান চলাচলের (ওভারফ্লাইট) অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড সরকার। এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির ফেডারেল কাউন্সিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরা।
সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিল জানায়, ‘নিরপেক্ষতা আইন’ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ওভারফ্লাইট অনুরোধ নাকচ করা হয়েছে। তবে তারা একটি রক্ষণাবেক্ষণকারী ফ্লাইট এবং দুটি পরিবহন বিমান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড। এ সিদ্ধান্তের পেছনে পদ্ধতিগত ও আইনি—এই দুই ধরনের কারণ কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের সিভিল এভিয়েশন অফিস জানায়, অনুমোদনের জন্য যে ধরনের ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আবেদনগুলো অনুমোদন দেওয়া যায়নি।
এছাড়া সুইজারল্যান্ড সরকার বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো সংঘাতকে তখনই যুদ্ধ বলা হয় যখন তার স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়।’
তিনি ইঙ্গিত দেন, সুইজারল্যান্ড যদি এই সংঘাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করে, তবে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধে সরাসরি জড়িত কোনো দেশের সামরিক বিমান সুইস আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না এবং যুদ্ধরত দেশগুলোতে কোনো অস্ত্র রপ্তানিও করা যাবে না।
সাধারণত বিদেশি সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের বিশেষ ‘ডিপ্লোম্যাটিক ক্লিয়ারেন্স’ বা কূটনৈতিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। দেশটির আকাশসীমা বিভাগ, আন্তর্জাতিক আইন বিভাগ এবং সুইস বিমান বাহিনী যৌথভাবে এসব আবেদন পরীক্ষা করে থাকে।
যদি কোনো আবেদনের সঙ্গে বড় ধরনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বা সামরিক অভিযানের সম্পর্ক থাকে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সেটি সরাসরি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় ফেডারেল কাউন্সিলে পাঠানো হয়।