প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
সরকারের বিশেষ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে অবশেষে বাংলাদেশে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চরম অনিশ্চয়তা ও সংকট কেটেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি, দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক বেসরকারি চ্যানেল টি স্পোর্টস এবং আরও একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম (যৌথ উদ্যোগ) বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে যাচ্ছে।
যে কারণে ফুটবল টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই বাংলাদেশের দর্শকেরা এই তিনটি চ্যানেলে সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। এর আগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’ ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের অঞ্চলের সম্প্রচার স্বত্ব কিনলেও, স্থানীয় বাজারে তা পুনঃবিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ মুহূর্তে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। এর ফলে খেলা শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে বাংলাদেশ কার্যত কোনো বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াই বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল।
টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে তৈরি হওয়া এই জটিলতা নিরসনে মূল ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি দ্রুত জরুরি বৈঠকের ডাক দেন, যেখানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নবনির্বাচিত সভাপতি তাবিথ আউয়াল গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী ও বাফুফে সভাপতি একসঙ্গে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া চ্যানেল, জাতীয় গণমাধ্যম, শীর্ষস্থানীয় টেলিকম সংস্থা এবং একাধিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগ স্থাপন করেন। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল ও টেলিকম খাতের এমন কিছু নতুন আয়ের উৎস বা রেভিনিউ মডেল খুঁজে বের করেন, যা বাংলাদেশের আগের কোনো বিশ্বকাপ সম্প্রচার চক্রে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।
দীর্ঘ দরকষাকষি ও করপোরেট কৌশলগত আলোচনার পর বিশ্বকাপের এই সম্প্রচার স্বত্বমূল্য এবার ৩০ থেকে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। এই মূল্য সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবকের প্রাথমিক দাবি করা ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলারের তুলনায় অনেক কম। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, বেসরকারি বাণিজ্যিক অংশীদারদের নিখুঁতভাবে একত্রিত করা এবং অভিনব উপায়ে নতুন আয়ের পথ উন্মুক্ত করার কারণে বাংলাদেশ সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।
ফলে এই সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করতে জনগণের করের একটি টাকাও খরচ হচ্ছে না। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই করপোরেট কৌশলগত ও সময়োপযোগী নেতৃত্বেরই ফলশ্রুতিতে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী ঘরে বসেই বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।