ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি © সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো্তে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এবারের আসরেই খেলার আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড)।
নতুন এসব নিয়ম ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, আসন্ন বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো এর প্রয়োগ দেখা যাবে বলে জানা গেছে।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, বৈষম্যমূলক আচরণ রোধ, সময় নষ্ট কমানো, খেলার গতি বাড়ানো এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।
যেসব নিয়মে পরিবর্তন আসছে
মুখ ঢেকে আপত্তিকর মন্তব্য করলে লাল কার্ড
সবচেয়ে আলোচিত নিয়মগুলোর একটি হলো মুখ ঢেকে আপত্তিকর মন্তব্য করলে সরাসরি লাল কার্ড। কোনো খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ আড়াল করে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তাহলে তাকে মাঠ ছাড়তে হবে। তবে স্বাভাবিক বা বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লেই লাল কার্ড
রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে গেলে তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। পাশাপাশি কোনো কোচ বা কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উৎসাহিত করলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো দলের কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে সেই দলকে পরাজিত ঘোষণা করা হবে।
থ্রো-ইন ও গোল-কিকে সময়সীমা
সময়ক্ষেপণ রোধে থ্রো-ইন ও গোল-কিক নেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রেফারি দৃশ্যমানভাবে পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন করবেন। সময়মতো থ্রো-ইন না নিলে বল প্রতিপক্ষের দখলে যাবে। একইভাবে গোল-কিক নিতে দেরি হলে প্রতিপক্ষ কর্নার কিক পাবে।
বদলি খেলোয়াড় নামানোর নতুন নিয়ম
বদলি খেলোয়াড় নামানোর নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। বদলির সংকেত পাওয়ার পর মাঠ ছাড়তে থাকা খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে নিকটতম সীমারেখা দিয়ে বের হতে হবে। নির্ধারিত সময়ে মাঠ না ছাড়লে বদলি খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং রেফারির অনুমতি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে হবে।
চিকিৎসা নিলে এক মিনিট মাঠের বাইরে
এছাড়া চিকিৎসার জন্য মেডিকেল স্টাফ মাঠে প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষকের চোট, গুরুতর মাথার আঘাত বা বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
ভিএআরের ক্ষমতা বাড়ছে
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড দেয়া, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো বা ভুল কর্নার কিকের সিদ্ধান্তের মতো ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে পারবে। বল খেলায় ফেরার আগের ফাউলও পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক পানিবিরতি
খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনায় প্রতিটি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের পানিবিরতি রাখা হয়েছে। সাধারণত অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে এই বিরতি দেয়া হবে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারি সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।
গোলরক্ষকের চিকিৎসার সময় কোচের সঙ্গে আলোচনা নয়
এদিকে গোলরক্ষক চিকিৎসা নেয়ার সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে গিয়ে কোচদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা বা ‘টাইম আউট’ নেয়ার সুযোগও থাকবে না। এর মাধ্যমে চিকিৎসার সময়কে কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।