জাহাজ বিস্ফোরণে আহত এক শ্রমিককে নিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা © সংগৃহীত
কাটার সময় বিস্ফোরণ হওয়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা কারখানার জাহাজটি একটি পুরোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) স্ক্র্যাপ জাহাজ ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। স্ক্র্যাপ জাহাজটির ভেতর থেকে সম্পূর্ণ গ্যাস বের না করে কাটার কাজ আরম্ভ করায় বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি একটি এলএনজি বহনকারী স্ক্র্যাপ জাহাজ ছিল। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের জাহাজে কাটিং বা কাটাকাটির কাজ শুরু করার আগে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ গ্যাস অপসারণ (Gas-freeing) করা বাধ্যতামূলক। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ সেই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ না নিয়েই কাটিং কাজ শুরু করায় ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
এ বিস্ফোরণে অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত ও আহত শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা না করে কারখানার ভেতরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ফেলে রাখা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে বাইরে থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে গেলেও কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করে উপস্থিত লোকজনকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে যন্ত্রণাকাতর শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।