বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন © লোগো
সরকারি তিতুমীর কলেজে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আজ সোমবার (২৬ মে) দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে তারা হামলা চালায়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
প্লাটফর্মটি অভিযোগ করে বলছে, কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে বারবার উপেক্ষা করে আসছে। সর্বশেষ, তিতুমীর কলেজের প্রিন্সিপাল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত, যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতে ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিয়ে যে অপরাধ করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।
আজ সোমবার (২৬ মে) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য (দপ্তর সেল) মারজিউর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি তিতুমীর কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন নাঈমের উপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ছাত্রলীগ বর্বর কায়দায় চালানো হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করছি।তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এই আন্দোলন সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত, যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক। অথচ কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবিকে বারবার উপেক্ষা করে আসছে। সর্বশেষ, তিতুমীর কলেজের প্রিন্সিপাল এই যৌক্তিক আন্দোলন দমন করতে ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিয়ে যে অপরাধ করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। আজ ‘তিতুমীর ঐক্য’র ব্যানারে শিক্ষার্থীরা যখন এই নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন, তখন সেই অবস্থানেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সদস্যকে মারধরের ঘটনার কথা জানিয়ে এতে বলা হয়, এই হামলা চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের একটি সংঘবদ্ধ দল হেলাল উদ্দিন নাঈমকে ঘিরে ধরে বর্বরভাবে মারধর করে। তাকে ছাত্রলীগের কুখ্যাত কায়দায় জিম্মি করে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করার চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন: তিতুমীর কলেজে বৈষম্যবিরোধীদের ওপর হামলা ছাত্রদলের, আহত ১৫
হুঁশিয়ারি প্রদান করে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জানিয়ে দিতে চাই—তিতুমীর কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে ন্যায্য ও জরুরি দাবি, আমরা তার প্রতি সম্পূর্ণ সংহতি জানাই। আমরা বলি: এই হল খুলে দেওয়ার দাবি রাজনৈতিক নয়, এটি শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। এই লড়াইকে যারা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দিয়ে থামাতে চায়, তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী। আমরা একই সঙ্গে তিতুমীর কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলাদেশপন্থি অবস্থানকে শ্রদ্ধা জানাই এবং উৎসাহিত করি। যারা এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক দলের দখলদারিত্ব ও প্রশাসনের দলদাস আচরণের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তারা এই দেশের ভবিষ্যৎ।
দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমরা হেলাল উদ্দিন নাঈমের উপর হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। একইসাথে, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে দলীয় ক্যাডার ব্যবহার করার অপরাধেরও তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। হামলা, নির্যাতন, জিম্মি করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়—এই কৌশল দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।