সোমবার হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত ব্যবসায়ী মারা যান ও যুবদলের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার (৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী নানা অনাচারের কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হলো।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন ইদ্রিস। ওই ঘটনার পর থেকেই জহিরুল ও তার অনুসারীরা ইদ্রিসের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। সম্প্রতি ইদ্রিস ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এলে সেই আক্রোশ চরম আকার ধারণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ও তার সহযোগীরা ইদ্রিসকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে আটকে রাখেন। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় নেওয়া হয়। এরপর সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার তিনি মারা যান।