প্রাথমিকের শিশুরা নতুন বই পেলেও বঞ্চিত মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষার্থী

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৪ PM
টাঙ্গাইলের রাণী দিনমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কর্মসূচি 

টাঙ্গাইলের রাণী দিনমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কর্মসূচি  © টিডিসি

আজ ১ জানুয়ারি। আজ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে। এ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। যদিও মাধ্যমিকের অনেক প্রতিষ্ঠানের কয়েক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়নি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার একাধিক স্কুলে ঘুরে দেখা যায়, স্কুলগুলোতে আজ থেকে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবক কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে এসে নতুন বই নিয়ে যাচ্ছেন। এসময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবার মাঝেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয়েছে।

রাজধানীর নাখালপাড়া হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তাদের জন্য বই নিতে আসা এক অভিভাবক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার দুই মেয়ে এই স্কুলে পড়ে। একজন ক্লাস ফাইভ ও আরেকজন ক্লাস ওয়ানে উঠেছে। তারা আজ নতুন বই পেয়েছে। বই পেয়ে তারা খুব খুশি, আমারও ভাল লাগছে।  

স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অনুভূতি জানিয়ে বলে, নতুন বই পেয়ে খুব ভাল লাগছে। আমার রোল এবার ৩২ থেকে ৪৩ হয়েছে। এজন্য এবার ভাল করে পড়াশোনা করব।

রাজধানীর প্রতিষ্ঠানগুলোর মত সারাদেশেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরণ হয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় জানিয়েছে, ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্ধারিত বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি এই তিন বিষয়ের মোট ৫ হাজার ৬৪৩টি বই বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে একই তিন বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৫০টি।

তবে প্রাথমিকের সব শ্রেণির বই স্কুলগুলোতে প্রায় শতভাগ নিশ্চিত হলেও মাধ্যমিক স্কুলের কোনো কোনো শ্রেণির বই না পাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই অনেক স্কুলে দেওয়া হয়নি। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বইও যায়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের গেলেও তা অপর্যাপ্ত।

আরও পড়ুন: ৬ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, ষষ্ট ও নবম শ্রেণি ব্যতীত কোনো শ্রেণির বই এখন পর্যন্ত আমার এখানে আসেনি। ষষ্ট ও নবম শ্রেণির বইগুলো আমরা ধাপে ধাপে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ অন্যান্য শ্রেনির বইগুলো পাবো সেটা জানি না, তবে বই আসলে শিক্ষা অফিস আমাদের জানাবে।

সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহিত আল সাদাত বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনে সবাই নতুন বই পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বই ছাড়াই ক্লাস করছি। শিক্ষকরা বোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন, কিন্তু বই না থাকলে বাসায় পড়া কঠিন হয়ে যায়।

পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফি বলেন, প্রথমিকের ছোট ভাইবোনেরা বই পেলেও আমরা এখনো পাইনি। এটা খুব হতাশাজনক। পরীক্ষার সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে, সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।

আনোয়ারা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির বই এখনো আমরা পাইনি। গতকাল রাতে বই এসেছে কিনা জানা নেই। বই পেলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে বইয়ের আওতায় আনতে পারবো বলে আশা করছি।

এর আগে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বছর শুরুর আগেই সরকারের বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন ভার্সন চালুর কথা জানানো। সে অনুযায়ী গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) এসব নতুন পাঠ্যবই পাওয়া যাচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লোগে পরিবর্তন, সব দাপ্তরিক কাজে নতু…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
এসএসসির ফল সোমবার, জানা যাবে ৩ উপায়ে
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ নেই: আমিনুল
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
মহসিন কলেজে ছাত্রদলের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ শিবিরের বির…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
গাঁজা চাষের অনুমতি দিল নেপালের একটি প্রদেশের সরকার, ব্যবহার…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ডিআইইউতে অর্থনীতি বিভাগের রিসার্চ মনোগ্রাফ কর্মশালা
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬