প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী শিক্ষকের যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাবার বাল্যবন্ধু বলে জানিয়েছে পরিবার।
বুধবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার চাকের পশার ইউনিয়নের ‘উন্নয়ন সমাজকল্যাণ সংস্থা’ ভবনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম রুহুল আমিন। তিনি শাকুয়া গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে এবং দীর্ঘ দিন ধরে ফুলখা চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
জানা যায়, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই শিক্ষক রুহুল আমিনের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেদিন অন্য শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকায় মেয়েটিকে একা পেয়ে শিক্ষক রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি রোজার বিষয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করেন এবং ছাত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। আতঙ্কিত কিশোরী কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমিন স্যার আমার বাল্যকালের বন্ধু। বন্ধু হিসেবে বিশ্বাস করে তার হাতে মেয়ের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার মেয়ের সাথে জবরদস্তি করেছে।’
ছাত্রীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যে মানুষকে মেয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো, সে এমন আচরণ করবে তা ভাবার মতো নয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে ফুলখা চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিনেশ চন্দ্র রায় জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক হলে ওই শিক্ষককে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে তাকে তিন মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যেই একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’