বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চলমান নির্মাণকাজে বাধা প্রদান ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঠিকাদারের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন ওরফে মনু।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা হলেন— শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত এবং ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব। তবে তাদের দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারপক্ষ এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগপত্রে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মনু উল্লেখ করেন যে, গত ১ মার্চ সকালে তিনি ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজ তদারকি করার সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দলবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি বন্দর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মনু বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় আজমাইন সাকিব এসে বলেন এখানে কাজ করতে পারবেন না, ঢালাই বন্ধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে হলে রড, বালি, পাথর টেস্ট করে কাজ করতে হয়, আমি সেভাবেই করি।' চাঁদা দাবির কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার কাছে কোনো ডকুমেন্টস নেই। যারা চাঁদা চায় তাদেরকে চেনার জন্য আমি একটা ছবি তুলেছিলাম সেটাও ছাত্রদল নেতা আমার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ডিলিট করে দিয়েছে।' তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক সভাপতি রেজা শরীফের নির্দেশেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'তিনি কেবল নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করেছেন এবং মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন। কোনো হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও মনু তার ছবি তোলেন এবং নিজেকে বিএনপি পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। তখন বিষয়টি রেজা শরীফ ভাইকে তিনি জানিয়েছেন।' তার দাবি, কাজের অনিয়ম সামনে আনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ এ প্রসঙ্গে বলেন, 'ঠিকাদার অন্যায়ভাবে নিম্নমানের ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করলে ছাত্রদলের আজমাইন সাকিবসহ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন। ঠিকাদার বরিশালের বিভিন্ন নেতাদের দিয়ে তার কাছে নালিশ করিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'সাকিবের দাবি ছিল দুইটা, প্রথমত নিম্নমানের পাথর দিয়ে এবং বাকাত্যারা কাজ ভেঙে নতুন করে ভালো মানের পাথর দিয়ে করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধারা ও আমেনা এন্টারপ্রাইজ আওয়ামী লীগের আমল থেকে ভার্সিটিতে নিম্নমানের কাজ করছে এবং যথাসময় কাজ করে না। তাদের নামে যেহেতু অনেক অভিযোগ, তারা আর কোনো কাজ করতে পারবে না। এখন দেখতেছি ঠিকাদার নিজের অন্যায় স্বীকার না করে উল্টো অভিযোগ দায়ের করলো।' রেজা শরীফ জানান, কাজের মান নিয়ে তিনি ভিসি ও প্রক্টরের সাথেও কথা বলেছেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের কথা সেখানে হয়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রধান প্রকৌশলীর সহায়তায় একই ঠিকাদার বারবার কাজ পেয়ে থাকেন। সাইমুন ও কাফিসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, ২ তারিখ কাজ চলাকালীন আজমাইন সাকিব নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলে মনুর সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম এবং প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, 'ঠিকাদারের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, এতে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে এবং ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর করাসহ চাঁদাবাজির অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'