নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার © টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেটে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া-সংবলিত পোস্টারিং সাঁটিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট ও বিবিএ ভবন এলাকায় এসব পোস্টার দেখা গেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারগুলো নজরে আসে। পোস্টারগুলোতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবির পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে “শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে”, “বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে” এবং “রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে”— এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পোস্টারিং কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১৫-১৬ সেশনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের নেতা সাজবুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, “রাজনীতি করার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয় নয়, জ্ঞান ও যুক্তির চর্চা হোক। প্রতিটি শিক্ষার্থী নিরাপদে পড়াশোনার সুযোগ পাক। একজন শিক্ষার্থী আগে শিক্ষার্থী, পরে রাজনৈতিক কর্মী। তাই শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এমন কার্যক্রম চালিয়ে থাকতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।”
উল্লেখ্য, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে।