ধরা পড়ে যা বললেন প্রবাসী প্রেমিককে মেয়েদের ছবি পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১১ PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আবাসিক হল ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে হলের অন্যান্য মেয়েদের বিভিন্ন আপত্তিকর, অশালীন ছবি তুলে লন্ডন প্রবাসী প্রেমিককে পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ওই ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। 

এ দিকে রাতভর নানা নাটকীয়তার পর আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে অবশেষে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন অভিযুক্ত ওই ছাত্রী। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী বলেন, আমাকে যে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেটা করার তাদের অবশ্যই অধিকার আছে। কারণ তারা বসে আছে, রুমে মুভমেন্ট করছে, সে ছবি আমি অন্য কারো কাছে দিয়েছি। এটা সম্পূর্ণ আমার দোষ। তবে আমি কোন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা তাদের মানহানি বা কোন ক্ষতি করব বা তাদের ব্যক্তিগত ছবি বিক্রি করে বা অন্য কোন খারাপ ইনটেনশন নিয়ে আমি এই কাজ করিনি।

প্রবাসী প্রেমিকের সাথে তার বান্ধবীদেরও আলাপচারিতা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে ছেলেটার সাথে আমার কথা হতো, সেই ছেলেটার সাথে তাদেরও কথা হতো। তাদের সাথে ফেসবুকে তারা অ্যাড আছে, খুব ভালো সম্পর্ক। তারা নিয়মিত কথা বলে। তারা আরও আমাকে বলতো যে, ছেলেটা ভালো, ছেলেটার সাথে রিলেশন কর। তুই তো লাইফে অনেক কিছু দেখসিস, অনেক কিছু সাফার করসিস, অনেকবার ঠকেছিস। ছেলেটাকে দেখ, বিশ্বাস কর। আমাদের তো মনে হয় ছেলেটা ভালো, ছেলেটাকে বিয়ে করে ফেল।

তিনি আরও বলেন, যখন ছেলেটা আমার সাথে নিয়মিত  কথাবার্তা হয় তখন সে তো আমার রুমমেটকে চিনে, আশেপাশের মানুষকেও চিনে। এখন এখানে আরও কয়েকটা বিষয় হতে পারে যে, অন্য মেয়েদের ছবি বা... আমরা কথা বলার সময় অনেক সময় ছবি দিয়ে বলি না যে, ‘একে তুমি চিনো? একে না আমার ভালো লাগে না, এ না আমার বান্ধবী' বিষয় ঠিক এরকম হইছে। তবে তারা বসে আছে যে, বিভিন্ন ভাবে আছে - আমি আবার বলতেছি, এটা আমার দেওয়া ঠিক হয়নি, আমার ভুল হইছে। সেটার জন্য আমি শাস্তি পাই, আমি মাথা পেতে নেব। 

ব্যক্তিগত আক্রোশ বা কোন মেয়ের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে সেগুলো অতিরঞ্জিত দাবি করে অভিযুক্ত ছাত্রী বলেন, আমি ভুল করছি, সেই ভুলের শাস্তি হোক। আমার হল থেকে বহিষ্কার হোক, বের করে দেওয়া হোক, সেটা ঠিক আছে, আমি অবশ্যই মাথা পেতে নেব। ভুল যেহেতু করছি, তার শাস্তি অবশ্যই আছে। তবে কারো ব্যক্তিগত ক্ষতি করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এটা অতিরঞ্জিত। আমি একজন স্টুডেন্ট। আমার ভুলটাকে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুক, কিন্তু আমার এইটা নিয়ে আমার ক্যারিয়ারটা ধ্বংস করে যাতে না দেওয়া হয়, আমি এটা প্রশাসনের কাছে, স্যারের কাছে, হল প্রভোস্টের কাছে আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রবাসী প্রেমিকের সাথে সম্পর্কের অবনতির ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রী বলেন, সে আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে কিন্তু আমি এখন বিয়ে করব না। সে বলেছে আমি এখন দেশে আসব। আমি বলছি ঠিক আছে, আমাদের তো ফর্মালি কখনো এভাবে দেখা হয়নি, আমাদের তো আসলে দেখা করা উচিত। ঠিক আছে আসো। এরপরে আমরা দিশা টাওয়ারে দেখা করেছিলাম, আমার বান্ধুবিরাও খুব এক্সাইটেড ছিলো। তারা আমাকে বারবার চাপ দিচ্ছিল যে ওকে বিয়ে কর, বিয়ে কর। কিন্তু আমি তো আগেই বলেছি যে আমি এখন বিয়ে করব না। আমাকে সে ধমক দেয়, আমি এখন বিয়ে করব না কিজন্য? এরপরে সে চলে গেছে। আম্মুও বাসা থেকে আমাকে বিয়ে দেয়নি। আমিও বলছি না, আমি এখন বিয়ে করব না, অনার্স শেষ করব। 

প্রবাসী প্রেমিকের থেকে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রী বলেন, আমি তার কাছে কোনদিন পাঁচটা টাকাও চাইনি যে, তুমি আমাকে টাকা দাও, আমার টাকা লাগবে। সে আমার পেছনে টাকা খরচ করছে। আমাকে খুশি করার জন্য দিছে, এখন উল্টো সে বলছে যে, আমি তোকে অনেক টাকা দিছি, এই করছি, ওই করছি, তোর পেছনে এত কিছু খরচ করছি। কিন্তু আমার কোন কিছুর অভাব নেই, আমার বাবা-মা দুইজনই চাকরি করে, দুইজনই ইনকাম করে। এখন সে ব্যক্তিগত রেষারেষি, ক্রোধ থেকে আমার যে ফ্রেন্ড সার্কেল আছে, তাদের সাথে আমার সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য সে এসব করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাকে থ্রেট করা হয়েছে। এই জিনিসগুলো করেছে ব্যক্তিগত রেষানল থেকে। আমি সেটার শিকার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রবাসী প্রেমিক আবিদ বলেন, ও আমাকে বিয়ে করবে বলে কথা দিয়েছিল। আর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়েদের ছবি পাঠিয়েছে। আমি ওকে অনেকবার নিষেধ করেছি এগুলো দিতে কিন্তু শুনে একটা বিশ্রী একটা হাসি দিতো। আমি দেশে গেলে সে আমার ফোন নিয়ে কনভারসেশন ডিলিটও করে দিছে। আমি ছবিগুলো সেভ না করে রাখলে আমার কাছে কোনো প্রমাণ ই থাকত না। সে তার খালাতো বোনের ছবিও দিয়েছে এভাবে। আর বিভিন্ন সময় কথাবার্তার ফাঁকে এটা নেই, ওটা নেই বলতো। তো এভাবে বললে কী করার থাকে, আমি তখন সেসব কেনার জন্য টাকা দিয়েছি। এখন সে এভাবে প্রতারণা করছে। আমি চাই ওর কঠিন শাস্তি হোক। 

প্রসঙ্গত, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আবাসিক ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে একাধিক ছাত্রীর ছবি তুলে লন্ডন প্রবাসী বয়ফ্রেন্ডকে পাঠানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত ২ টি ফোন তদন্ত কমিটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

অন্তত ২০ ছাত্রীর ‘আপত্তিকর’ ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠিয়েছেন ঐশ…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
স্কুলের নামফলক থেকে বাদ গেল প্রতিষ্ঠাতা ভাসানীর নাম
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েছেন ২৩ হাজার চাকরিজীবী 
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ধরা পড়ে যা বললেন প্রবাসী প্রেমিককে মেয়েদের ছবি পাঠানো সেই ই…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
কবি নজরুল কলেজে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বাজেট, বেতন-ভাতায় সর্বো…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চাইল নরওয়ে 
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬