জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ইবিতে র্যালি © টিডিসি ফটো
পবিত্র কুরআন খতম, কালো ব্যাজ ধারণ, র্যালি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্যে দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) ফজর নামাজের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনের চত্বর থেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর চত্বরের উদ্দেশ্যে একটি র্যালি বের করা হয়।
দুপুর ১২টায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ইবি ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, টিএসসিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুল, সাধারণ সম্পাদক তোজাম হোসেন, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ সহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।
প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর পর্যায়ক্রমে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সমিতি-পরিষদ-ফোরাম, ছাত্র সংগঠন, হল, বিভাগ, অফিস এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে সুশৃঙ্খলভাবে ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপনকালে একদল বিপথগামী সেনা সদস্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা তার লাশ গুম করে ফেলে নির্জন জায়গায়। পরে সেখান থেকে লাশ উত্তোলন করে ঢাকায় এনে সমাহিত করা হয়। এক জানাজা— শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার ইতিহাসে সবচাইতে বড় জানাজা ছিল এটা।
তিনি আরও বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি, একজন সেনাপ্রধান হিসেবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে তার হাতে কয় টাকা ছিল? দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মেহনতি মানুষের জন্য তিনি যা করেছেন তা অতুলনীয়। তিনি যখন রাষ্ট্রনায়ক হলেন তখন বহির্বিশ্বে আমাদের শ্রমবাজারে এই বাংলাদেশের লোকদের কাজ করার সুযোগ হয়। এরপরে খাল খননের মাধ্যমে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। বন্যা, খরা— সবকিছু দূর হয়ে যায়। আল্লাহর রহমত আসে। দেশ এক প্রকৃত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জীবিত থাকতে আমরা তাকে মূল্যায়ন করি নাই।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি আজকের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্র বিনির্মাণের ক্ষেত্রে যে অসম্পূর্ণ কার্যক্রম সেটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ইনশাআল্লাহ তা সম্পন্ন করব।
এছাড়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কেও আমরা তার এই পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে আগামীতে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। এসময় ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইবি উপাচার্য।