৩৭ অপেশাদার কাজে প্রাথমিক শিক্ষকরা, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮ AM
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা © সংগৃহীত

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষককে পাঠদানের বাইরে অন্তত ৩৭ ধরনের অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অতিরিক্ত দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে প্রতিবছর সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকারও বেশি, যার সরাসরি কোনো সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। এই বাড়তি কাজের চাপে শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ফলও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, শিক্ষকরা গড়ে মাসে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেশাদার কাজে ব্যয় করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের সরকারি জরিপ কাজে তাদের সিংহভাগ সময় চলে যায়, যার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শন বা বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণে তারা খুব কম সময় দিতে পারেন। 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের চেয়েও বেশি সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যয় করেন, যার গড় মাসে প্রায় ২৭ দশমিক ৭৪ ঘণ্টা।

আরও পড়ুন: আবারও বাড়ছে শীত: কবে থেকে ও কতদিন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস

অতিরিক্ত এই কাজের চাপ সরাসরি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯০ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, অপেশাদার কাজ শেষ করে ক্লাসে ঢোকার পর তারা পাঠদানে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। এর ফলে ৮৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক; গবেষণায় দেখা গেছে ২১৯ জন বার্নআউট আক্রান্ত শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৯২ দশমিক ৬৯ শতাংশই ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এ ভুগছেন যদিও এটি চরম কর্মক্লান্তির একটি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। 

তিনি বলেন, এই গবেষণার তথ্যগুলো নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। 
 
এছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ও ফরিদ আহমদ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিশুদের প্রকৃত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পাঠদান বহির্ভূত কাজের বোঝা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


প্রাথমিক শিক্ষা, নেপ গবেষণা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষক বার্নআউট, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিক্ষার মান

আগামী শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলা-ইংরেজির মতো বাধ্যতামূ…
  • ১৮ জুন ২০২৬
আড়ং নিয়োগ দেবে অ্যাসোসিয়েট অফিসার, আবেদন ২৭ জুন পর্যন্ত
  • ১৮ জুন ২০২৬
অঘটনের বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের সবচেয়ে বড় চমক কারা?
  • ১৮ জুন ২০২৬
ইউজিসির মেধাবৃত্তি পেলেন বাকৃবির ৬  শিক্ষার্থী
  • ১৮ জুন ২০২৬
হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে ৬৬৬ জনের প্রাণহানি
  • ১৮ জুন ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে, আবেদন অভিজ্ঞতা …
  • ১৮ জুন ২০২৬