বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাবিতে অ্যাক্রেডিটেশন-বিষয়ক কর্মশালা

১০ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ PM , আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ PM
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা © টিডিসি

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘প্রিপারেশন ফর অ্যাক্রেডিটেশন: ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড এভিডেন্স’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) কনফারেন্স রুমে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

হিট প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইকিউএসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অ্যাক্রেডিটেশন প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় লোকপ্রশাসন বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনলজি বিভাগ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং দর্শন বিভাগসহ মোট ৮টি বিভাগের সভাপতি ও পিসাকের সদস্যদের নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হলে অ্যাক্রেডিটেশন সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি বিভাগ, অনুষদ এবং প্রশাসনিক ইউনিটকে প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অ্যাক্রেডিটেশন সেই জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়নের কাঠামো তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে অ্যাক্রেডিটেশন একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানোন্নয়ন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষ অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমি একজন কৃষির শিক্ষক। আমি জানি, গুণগত ভালো বীজ ভালো ফসল দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় গুণগত শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক উৎকর্ষতা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের কর্মশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসকদের মধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সুসংগঠিত, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্ল্যাটফরম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ যৌথ উদ্যোগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. এস এম কবীর। তিনি তার উপস্থাপনায় অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন, প্রমাণ সংরক্ষণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করার পথ তৈরি করে। সঠিক ডকুমেন্টেশন এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংরক্ষণ ছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও সক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, আইসিটি সেন্টারের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে বাধা …
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগ করতে হচ্ছে
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
পদত্যাগের ঘোষণা দিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইশরাক
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
গাড়ি থেকে নিজ হাতে সরকারি লোগো খুললেন ইশরাক
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগে যাকে দূষলেন হাসনাত আব্দ…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
যত্রতত্র পোস্টার ও দেওয়াল লিখনে নিষেধাজ্ঞা দিল ডিএনসিসি, অম…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬