নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি © সংগৃহীত
চলতি বছর সামার সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এই উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ সংগঠন ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ’ (এসিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল ও সিইও প্রফেসর কলিন রিওর্ডান সিবিই।
চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা এই বৈশ্বিক শিক্ষাবিদ নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়, যা আজীবনের বন্ধুত্বের ভিত গড়ে দেয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার এবং নিজের বিচারবোধের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেন।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আগে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এসিইউ-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলিন রিওর্ডান। ওই বিশেষ আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ব্রিটিশ কাউন্সিল, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৪ জন উপাচার্যসহ বিভিন্ন এসিইউ সদস্য ও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ওরিয়েন্টেশনের মূল পর্বে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার দেশের উচ্চশিক্ষার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এক উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সময়মতো তাদের স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) শেষ করতে পারে এবং স্নাতক শেষ করার পর প্রথম বছরেই প্রায় ৪০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট কোনো চাকরি পায় না। এই তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকতে এবং মা-বাবার ত্যাগের প্রতিদান দিতে শিক্ষার্থীদের সমাজের কল্যাণে ও পৃথিবীর জন্য কিছু করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার এবং কৌতূহলী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী। ওরিয়েন্টেশনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন কৃতি শিক্ষার্থীকে তাঁদের অসামান্য অর্জনের জন্য সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— নটরডেম কলেজ দাবা প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ঋষিন তালুকদার (ইইই বিভাগ), উপকূলীয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করা ফারহাত মাইশা আরপা (আইন বিভাগ), নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে গ্রামীণ পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করে রানার-আপ হওয়া জিয়া মোহাম্মদ সায়েফ উল্লাহ (ইইই বিভাগ) এবং গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড উদ্ভাবন করা সমর্পিতা সাহা ছোঁয়া (মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ)। প্রধান অতিথিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড শিক্ষার্থীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অডিওভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং এর দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের শিক্ষাদর্শন শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত রেসিডেন্সিয়াল সেমিস্টার (আরএস), বিভিন্ন সহশিক্ষা ক্লাব ও একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করা হয়। স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন প্রফেসর সামিয়া হক এবং প্রক্টর ড. রুবানা আহমেদের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টুডেন্ট লাইফের হেড তাহসিনা রহমান। ওরিয়েন্টেশনের শেষভাগে কালচারাল ক্লাবের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা এবং দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘সহজিয়া’র লাইভ কনসার্টের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক এবং অফিস অব কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের চেয়ারপারসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।