জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনার আহ্বান; নর্থ সউথ ইউনিভার্সিটিতে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ © সংগৃহীত
পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেছেন, প্রচলিত নিরাপত্তা ধারণার বাইরে সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও কৌশলগত সমন্বয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিসিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা: নতুন ও পরিবর্তনশীল যুগে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিএস পরিচালক অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এরা পরস্পরকে শক্তিশালী করে।’
প্রতিরক্ষা ও জোটবিষয়ক প্রথম অধিবেশনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের জন্য একটি সামরিক জোটভিত্তিক কৌশল বিবেচনারও প্রস্তাব দেন তিনি।
একই অধিবেশনে মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতি দেশের অসম দুর্বলতাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। তাই এখনই প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বলেন, কার্যকর জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী সাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। মেজর জেনারেল (অব.) মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাকে যুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়।’
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক তৃতীয় অধিবেশনে কমোডর (অব.) তাসিদ মসবাহ উদ্দিন আহমেদ বহুমাত্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা একটি সামুদ্রিক জাতি, তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সামুদ্রিক অঞ্চল সুরক্ষিত করা পূর্বশর্ত।’
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম. আনোয়ার হোসেন বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সমন্বিত ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বক্তারা একটি ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের সুপারিশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে ছোট রাষ্ট্রগুলোও বৃহৎ শক্তিগুলোকে পরাস্ত করতে সক্ষম।’
এসময় বিশেষ অতিথি মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর একটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ যখন দেশীয় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনে।