জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা © টিডিসি
গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে ব্যাবসার উপকরণসহ এককালীন সরকারি সহায়তা দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী শেরাটন হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহারে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিশেষ একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ভাতা নয়, প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় নিজ আয় ও নিজ কর্মজীবন গড়ে তুলা হবে। প্রশিক্ষণ ও ব্যাবসার উপকরণ এককালীন সরকারি সহায়তায় প্রদান; বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা; প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কর্মক্ষেত্রের ভেতরে সেলাই, হস্তশিল্প, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি, খামার, মৎস্যচাষ উল্লেখযোগ্য নারীসমাজকে উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করে অর্থনীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা তৈরি করবে জামায়াতের এই প্রকল্প।
নারীর ন্যায্য সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শিশুর প্রতি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে ১৭টি পদক্ষেপ নেবে জামায়াত। সেগুলো হলো-
নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষা: জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন করে সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
নারী চলবে নির্ভয়ে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১) নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস (পিক আওয়ারে), ২) গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ৩) দোতলা বাসে আলাদা কম্পার্টমেন্ট চালু, ৪) ইমার্জেন্সি কল নম্বর চালু করা ও ৫) নারীর নিরাপত্তায় ইমার্জেন্সি পোল স্থাপন করা হবে।
আমার আয়ের সংসার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা হবে। এর জন্য হাঁস-মুরগীর খামার, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি প্রকল্প তৈরিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও নামাজের ব্যবস্থা করা হবে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন: প্রকৃত হিজড়া সনাক্ত করে পুনর্বাসন করা হবে ও তাঁদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা হবে। নারী, শিশু ও পরিবারের উন্নয়ন: পরিবার কাউন্সেলিং ও মোটিভেশন সেন্টার চালু করা, নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনুদান ও সেবার পরিসর বাড়ানো হবে।
নারীর সম্পদের অধিকার নিশ্চিতে ধর্মীয় প্রচারণা বাড়ানো হবে। ভিকটিম নারীর সকল প্রকার আইনি, মানসিক, আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। অভাবগ্রস্ত, সুবিধাবঞ্চিত সধবা ও বিধবা নারীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে সাবলম্বী করার লক্ষ্যে এককালীন পুঁজি সরবরাহ করা ও তদারকি করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: জীবনব্যাপী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুযোগ চালু করে নারীদের কর্মজীবনে ফিরে আসার পথ তৈরি করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার (Day Care Centre) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো হবে।
নারীর স্বাস্থ্য ও খেলাধুলা: মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার সচেতনতায় প্রতিটি জেলায় নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
আইন সংস্কার: নারীর সম্পত্তি অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হবে। উত্তরাধিকার সম্পত্তির মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। নারীর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হবে।
হাসপাতালে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে নারী ভিকটিম ও নারী আসামির জন্য নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। দরিদ্র গর্ভবতী ও প্রসূতি নারী এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। শিশু খাদ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (VAT) থাকবে না।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত নারী উন্নয়ন বিষয়ক সংস্কার কমিশন যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তা পর্যালোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।