জাতীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিএনপিতে © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে অন্তত ৭৯টি আসনে দলটির গলার কাঁটা ৯২ জন বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী। বহিষ্কার, সতর্কতা জারির পর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তারা প্রার্থী থেকে গেছেন।
আর তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। তাকে গত ২৯ ডিসেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। শুরুর দিকে ১১৭টি আসনে বিএনপির অন্তত ১৯০ জন নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। প্রত্যাহারও করেছেন অনেকে। ১০ জনকে দলের সব পর্যায়ের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ৩০০ সংসদীয় আসনে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে পাবনা ১ ও ২ আসনের নতুন তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
জানা গেছে, ঢাকার তিনটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ঢাকা-৭ আসনে (লালবাগ-চকবাজার-বংশাল-কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালি আংশিক) বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক নেতা ইসহাক সরকার। ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল-হাতিরঝিল-শেরে বাংলা নগর আংশিক) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপরীতে মাঠে রয়েছেন বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব।
ঢাকা-১৪ আসনে (মিরপুর-শাহ আলী-দারুস সালাম) থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। সাজুকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন। এ আসনে শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জেলা বিএনপির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন। প্রার্থী হওয়ায় ফিরোজকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা প্রার্থী হয়েছেন। এখানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীব বিএনপি জোটের প্রার্থী। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রুমিন ফারহানাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। যশোর-৫ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন প্রার্থী হয়েছে। এ আসনে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (অনিবন্ধিত দল) নেতা মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাছ জোটের প্রার্থী।
আরও পড়ুন: পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৮০ হাজার কোটি টাকা, বরাদ্দ আছে কত?
বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী। এখানে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলার সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। আরেক শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে একটি আসন ছাড়ার কথা ছিল। তবে তিনি ঢাকা-১৮ ( উত্তরা-বিমানবন্দর) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আলাদা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদও প্রার্থি হয়েছেন। এখানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক জোটের প্রার্থী। মামুনুরকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মিত্র দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপির দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তাদেরকে বহিষ্কার করেছে দল।
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে ও বগুড়া-২ আসনে মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে। এর বাইরে আরও অনেক আসনে বিএনপি ও শরীক দলের প্রার্থীদের বিপক্ষে প্রাতদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির অনেক নেতা।